এফ-৩৫ ও তুরস্ক ইস্যু

img

আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ২৮ জুলাই ২০২৬

আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না: ট্রাম্প

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপাত্তিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে ‘আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না’। 

সোমবার (২৭ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রশংসা করেন এবং এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। 

হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের মাত্র একদিন আগে ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং নেতানিয়াহুর বিপরীত অবস্থান সত্ত্বেও ট্রাম্প তুরস্ককে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার অধিকারী এক অনন্য পরাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। 

এর আগে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্ককে চরমপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড ভাবধারার অনুসারী বলে আখ্যা দিয়ে তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্প এই বিমানে দেওয়া বক্তব্যে জানান যে আঙ্কারা ইসরায়েল বা নেতানিয়াহুর ভক্ত না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তারা ওয়াশিংটনের দারুণ সহযোগী। মূলত ২০২০ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার অপরাধে আঙ্কারাকে আমেরিকার এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তুরস্ক এখনও এস-৪০০ ব্যবস্থা সম্পর্কিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারিং আমেরিকার অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের অধীনে থাকা এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনও পুরোপুরি না মিটলেও ট্রাম্প আঙ্কারাকে যুদ্ধবিমান প্রদানের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। তুর্কি সরকারের ওপর থাকা এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি আপাতত আইনি শর্ত বাস্তবায়নের দিকেই নির্দেশ করছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়া শপিং মলে আটকা পড়েছেন অনেকে

প্রকাশিত :  ১৩:৫১, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বহুতল শপিং মলের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভবনটির ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরসঙ্গে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে একটি ভবনে ভূমিকম্পের পর আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি।

জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে ভূমিকম্পের পর দেশের প্রধান দ্বীপ কায়ুসুতে একাধিক জায়গায় আগুন ধরেছে। কয়েকটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া অনেক জায়গার সড়কে ফাটল দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১২টি বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় ৪টা ২৭ মিনিটে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানায় জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮।

ভূমিকম্পের পর পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই এটি তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী তাকাচি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বলেছেন, “আমরা আহত ও অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি এখনো নিরূপণ করছি। যদিও আমাকে ইতিমধ্যে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্রিজ, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত ও কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।”

‘কাশিমা’ নামে শহরের একটি শপিং মলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এতে করে মলটির ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এরআগে পুলিশ জানিয়েছিল, কাশিমার এইন নামে একটি শপিং মলে তারা বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনার তথ্য পেয়েছিল। তখন তাদের কাছে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য আসেনি।

সূত্র: সিবিএস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর