img

ঝাড়খণ্ডে ফের ছাত্র-আন্দোলন, সমর্থন জানাল ককরোচ জনতা পার্টি

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

ঝাড়খণ্ডে ফের ছাত্র-আন্দোলন, সমর্থন জানাল ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে আবারও তীব্র ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। চতুর্দশ রাজ্য সরকারি কর্ম কমিশনের প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

\r\n

আন্দোলন আরও জোরদার করতে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। এদিকে আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এর ফলে রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে চলমান আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে।

রোববার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অনশনের ঘোষণা দেন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। তিনি বলেন, পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সরকার ও রাজ্য সরকারি কর্ম কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। 

দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে জানান, গত মাসে চতুর্দশ প্রাথমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই বিতর্কের সূচনা হয়। এরপর ৫ জুলাই আন্দোলন শুরু হয়। ৭ জুলাই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ৮ জুলাই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে ২০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। এরপর সরকার কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপের কথা জানালেও শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফল প্রকাশে অসঙ্গতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে বহু মেধাবী চাকরিপ্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও বারবার বিতর্কিত পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো সাংবাদিকদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে একের পর এক বিতর্কের পর ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলন নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে বিভিন্ন রাজ্যেও একই ধরনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। ফলে ঝাড়খণ্ডের ঘটনাও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে রাঁচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

চাকরিপ্রার্থীদের আশা, সরকার দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইমরান খানকে মুক্তি দিতে পাকিস্তানে চলছে গোপন আলোচনা

প্রকাশিত :  ১২:১৯, ০৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩০, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটে তাকে চিকিৎসাজনিত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তাকে মুক্তির বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের নিভৃত প্রকোষ্ঠে গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দী রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি এই নেতা। গত কয়েক মাস ধরে আত্মীয়স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এবং চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় পরিবার ও সমর্থকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পিতাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও একই শঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

এর আগে ২০১৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ভাই নওয়াজ শরীফের ক্ষেত্রেও অনুরূপ একটি চুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইমরান খানের মুক্তির ক্ষেত্রে দেশত্যাগের বাধ্যবাধকতা, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং চুপ থাকার মতো কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের এই অধিনায়ক অত্যন্ত আপসহীন চরিত্রের মানুষ হওয়ায় সহজে এই শর্তগুলো মেনে নেবেন না। মানবাধিকার আইনজীবী ও ইমরানের ব্যক্তিগত বন্ধু ক্লাইভ স্টাফোর্ড স্মিথ মনে করেন, ইমরান খান নিজের নীতিতে অটল থাকবেন এবং সামরিক নেতৃত্বও তাকে সহজে মুক্তি দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না। 

২০১৮ সালে সামরিক বাহিনীর প্রচ্ছায়ায় ক্ষমতায় আসলেও পরবর্তীতে সেনাকর্তাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকে তাকে রাজনীতি ও গণমাধ্যম থেকে মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে দেশটির সরকার ও সামরিক কর্তৃপক্ষ। 

বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী অবশ্য সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ইমরানের মামলাগুলোর ফায়সালা একমাত্র আদালতেই হবে এবং মেডিকেল গ্রাউন্ডে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর