img

কেমন আছেন মোজতবা খামেনি, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত :  ১০:১০, ১১ আগষ্ট ২০২৬

কেমন আছেন মোজতবা খামেনি, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তিনি দাবি করেছেন, খামেনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ রয়েছেন। পেজেশকিয়ান জানান, সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তিনি টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময়ের ওই বৈঠকেও খামেনির শারীরিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় বৈঠকে বসতে পারা প্রমাণ করে খামেনি গুরুতর কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন না।

তার ভাষ্য, ‘যে ব্যক্তি সাত-আট ঘণ্টা বসে আলোচনা করতে পারেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে না।\' সেইসঙ্গে খামেনির  সঙ্গে বৈঠক ‘খুবই ভালো’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

পেজেশকিয়ান জানান, বৈঠকে খামেনি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়েও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হওয়ার মধ্যেই পেজেশকিয়ান এসব মন্তব্য করলেন।

রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি খামেনির একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়।

ইসরাইলি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খামেনি ‘অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায়’ রয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে খবর প্রকাশের পর ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

শুক্রবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানের ভেতরের কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে দাবি করেছিল।

তবে এখন ইরানের কর্মকর্তারা খামেনির সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরে এসব খবরের বিরোধিতা করছেন।

পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেয়েছে। খামেনি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ওপর জোর দিয়েছেন।

ইরান যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১১ আগষ্ট ২০২৬

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাশার আল-আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে দেশটির গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। অন্যদিকে, নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল’।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে সাবেক শাসক তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাফেজ আল-আসাদ এবং পরে তার পুত্র বাশার আল-আসাদ  সিরিয়া শাসন করেছেন।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশজুড়ে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এরপর দেশটি ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। এ সময় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা