img

রাশিয়ায় নতুন ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির

প্রকাশিত :  ০৬:০৮, ১০ আগষ্ট ২০২৬

রাশিয়ায় নতুন ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরও ৫০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জেলেনস্কির দাবি, এসব সেনা রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সহায়তা করবে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত কাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “খুব শিগগিরই রাশিয়ায় কমপক্ষে ৫০ হাজার নতুন সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের (রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। নতুন এই সেনাদের রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে।”

কোথা থেকে এই তথ্য পেয়েছেন, এক্সবার্তায় তা স্পষ্ট করেননি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, তবে বলেছেন— সম্প্রতি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

“এটা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট যে রাশিয়ার কাছ থেকে লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম গ্রহণ করে রাশিয়ার ভেতরেই ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য সমরাস্ত্র তৈরি করেছে”, বলেছেন জেলেনস্কি।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া যেমন রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে, তেমনি দেশটির প্রতিবেশী এবং প্রধান বৈরীপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক হতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি।

এক্সবার্তায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমারা এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সমর্থন পেতে যাচ্ছি, যেখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে; আর সেটি হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম)। এছাড়া ড্রোন নির্মাণ চুক্তি ও অন্যান্য সামরিক খাতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জুন মাসে উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই সফরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের এক বিস্তৃত কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। সে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ যদি বাইরের কোনো শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে অপর দেশ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওই বছরই প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

চলতি আগস্ট মাসে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি রুশ বাহিনীকে সহযোগিতা করতে নিয়মিত সেনার পাশাপাশি ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬টি লাঞ্চারসহ নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই ইউনিটকে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘হেরে গেছে’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর

প্রকাশিত :  ০৬:১৮, ১০ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে; বিপরীতে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে।

মার্কিন এই সিনেটর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে ইরান নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।’ যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দেন তিনি। এমনকি চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব ভালো না হলেও যুদ্ধ শেষ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার স্বার্থে সেটি মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

মারফির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল হবে, ইরান আরও শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু করতে ইরান ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন টাইমস।

মারফি জানান, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের পক্ষে তিনি ভোট দেবেন না। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য অর্থ দেওয়ার পক্ষে তিনি। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর