img

চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জনক সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোংজি মারা গেছেন

প্রকাশিত :  ১৪:২৮, ১২ আগষ্ট ২০২৬

চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জনক সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোংজি মারা গেছেন

চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রোংজি আর নেই। বুধবার (১২ আগস্ট) বেইজিংয়ে অসুস্থতাজনিত কারণে ৯৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রোংজি। তার আগে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংস্কার, করব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং বাজারমুখী অর্থনীতির প্রসারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

১৯৯০-এর দশকে চীনের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি ও অদক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেন ঝু। লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ কমানো এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও এর মাধ্যমে চীনা অর্থনীতিতে দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ে।

চীনের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগদানের ক্ষেত্রেও ঝু রোংজির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ আলোচনার পর তার নেতৃত্বে চীন ডব্লিউটিওতে যোগ দেয়, যা দেশটির বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখে।

ঝু ছিলেন স্পষ্টভাষী ও কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। দুর্নীতি, সরকারি কর্মকর্তাদের অদক্ষতা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতেন। এ কারণে চীনের রাজনীতিতে তার আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল।

তবে তার সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ ব্যাপক সামাজিক মূল্যও তৈরি করে। রাষ্ট্রীয় শিল্পে পুনর্গঠনের ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই হয় এবং পরবর্তী সময়ে আয়বৈষম্যসহ বিভিন্ন সমস্যারও সমালোচনা ওঠে। তারপরও চীনের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ঝু রোংজির ভূমিকা দেশটির আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তার মৃত্যুকে দেশ ও কমিউনিস্ট পার্টির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।



আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রণতরিতে মার্কিন নৌ সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ৭, দাবি ইরানি মিডিয়ার

প্রকাশিত :  ১১:১৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নৌসদস্য আহত হয়েছেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রণতরিটিতে মোতায়েন থাকা নৌসদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে অবস্থান ও মোতায়েন নিয়ে নৌসদস্যদের অভিযোগের পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা রণতরিটিতে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ নৌসদস্যরা তাকে দুয়োধ্বনি দেন এবং তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে নৌসদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে।

ঘটনার পরও রণতরিটির ভেতরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২০৮ দিন টানা সমুদ্রে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর