রণতরিতে মার্কিন নৌ সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ৭, দাবি ইরানি মিডিয়ার
প্রকাশিত :
১১:১৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নৌসদস্য আহত হয়েছেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রণতরিটিতে মোতায়েন থাকা নৌসদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে অবস্থান ও মোতায়েন নিয়ে নৌসদস্যদের অভিযোগের পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা রণতরিটিতে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ নৌসদস্যরা তাকে দুয়োধ্বনি দেন এবং তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে নৌসদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে।
ঘটনার পরও রণতরিটির ভেতরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২০৮ দিন টানা সমুদ্রে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ৭০ বারের বেশি আফটারশক, নিহত বেড়ে ২৫০
প্রকাশিত :
০৬:৩৭, ১২ আগষ্ট ২০২৬
কলম্বিয়ায় গত কাল মঙ্গলবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ৭০ বারের বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ ধ্বংস্তূপের তলায় এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত) মোট ২৫৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে। নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য শহর পেরেইরাতে— ১০১ জন। তার পরে দ্বিতীয় স্থানে আছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শহর কালি।
গত কাল সোমবার কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারে, ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলেও বলা হয়েছে ইউএসজিএসের বিবৃতিতে।
গত শুক্রবার কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা শপথ নিয়েছেন। তার শপথ গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় হলো এ ভূমিকম্প। প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো অবশ্য ইতোমধ্যে ভূমিকম্পে সবচেয়ে বিধ্বস্ত চোকো প্রদেশ সফর করেছেন। ভূমিকম্প দুর্গতদের জন্য ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা বাজেটও ঘোষণা করেছেন তিনি।
কলম্বিয়া কফি উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে সরকারি দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি দেশটির কফি উৎপাদনকারীদের জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল কফি ফেডারেশনের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও এগিয়ে এসেছে।
রোসা গঞ্জালেস নামের এক নারী রয়টার্সকে জানান, তিনি তার স্বামী ও ১০ মাসের শিশুসন্তানসহ পেরেইরা শহরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ভূমিকম্পে নিতান্তই সৌভাগ্যের কারণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি।
“আমরা যে গেস্ট হাউসে ছিলাম, সোমবার সকালে হঠাৎ গোটা গেস্ট হাউস দুলতে শুরু করল এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। আমরা গেস্ট হাউস থেকে বের হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেটি ধসে পড়ে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার জোসে গাল্লেগো ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা ছিলেন এবং এ ঘটনার লাইভ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “লাইভ ভিডিওর জন্য আমি পায়ে হেঁটে পেরেইরা শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়েছি। আমি দেখেছি যে বহু মানুষ আহত হয়েছে, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, তারা ব্যাথায়-আতঙ্কে আর্তনাদ করছে এবং পরিবারের সদস্যদের খুঁজছে।”
ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অপর শহর কালিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়ায় বাস্তুহারা হওয়া অনেকেই সড়কে থাকছেন, রান্না করছেন এবং ধ্বংসস্তূপে মূল্যবান জিনিসপত্রের সন্ধান করছেন।
কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এ শহর প্রশাসনের স্বাস্থ্য সচিব গেরমান এস্কোবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের শহরের প্রধান মর্গ লাশে পূর্ণ হয়ে গেছে।