img

গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে-এর দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৯:২৪, ১৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫৭, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন

গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে-এর দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

লন্ডন, ২ আগস্ট ২০২৬: গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে এর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও চলমান বিরোধের অবসান, ট্রাস্টে গঠনতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাধারণ ট্রাস্টিদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাস্টের গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা অনুযায়ী সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) লন্ডনের চিলড্রেন এডুকেশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব জহির হুসাইন গৌছ। সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান ও মোঃ শামিম আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম।  সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জনাব জহির হুসাইন গৌছ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব মামুনুর রাশিদ খাঁন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধ, সাংগঠনিক অচলাবস্থা, ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকার ফলে কার্যক্রমে সৃষ্ট স্থবিরতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ট্রাস্টকে গঠনতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা শেষে উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দ ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে নাম প্রস্তাব করেন। সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাস্টি জনাব আকতার হুসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আব্দুল আজিজ ফারুক ও ট্রাস্টি রিয়াজ উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসরণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সেই সাথে গত ৩১ মার্চ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের সর্বশেষ সর্বজনগ্রহণযোগ্য সাধারণ সভার "আলোচ্যসূচি ৮. সংবিধান সংশোধন: (ক) প্যানেল ভোট অথবা স্বাধীন ভাবে ভোট প্রয়োগ করে পছন্দ মত প্রার্থীকে ভোট প্রদানের প্রস্তাব (গৃহীত)। (খ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব (গৃহীত)।" সহ গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

বিপুল সংখ্যক সাধারণ ট্রাস্টির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনাব ছিফত আলী আহাদ, মোঃ ফজলুল হক, আব্দুল কাইয়ুম হান্নান, মোঃ মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মোঃ দিলওয়ার হোসেন, সায়াদ আহমদ সাদ, এমদাদ হুসেন টিপু, মাশুক আহমদ, সেলিম আহমেদ খান, দেওয়ান নজরুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস জুনেদ, সেলিম উদ্দিন চাকলাদার, মাহমুদুর রহমান শানুর, সিব্বির আহমদ, আব্দুস সামাদ, বদরুল আলম বাবুল, আব্দুল কাদির, আমিনুল হক জিল্লু, মোঃ ইকবাল হুসেন, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মোঃ ফারুক মিয়া, আলম খান, মাসুদ আহমদ জুয়েল, মোঃ লাভলু, মুহিবুর রহমান, আনওয়ার হুসাইন, তালাত ছিদ্দিক, মিসবাহ মাসুম এবং জুবায়ের সিদ্দিকী,সোহেল আহমেদ স্বপন, আব্দুল কুদ্দুস লাভলু, ইকবাল আহমেদ, কামাল উদ্দিন, দেওয়ান আব্দুল বাসিত প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সকল ট্রাস্টির সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাস্টের সকল কার্যক্রম গঠনতন্ত্রের বিধান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। উপস্থিত ট্রাস্টিরা আশা প্রকাশ করেন যে, নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে, ট্রাস্টের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমসহ ট্রাস্টের সকল কর্মকাণ্ড সৌহার্দ্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে নতুন উদ্যমে পরিচালিত হবে। সবশেষে ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সাফল্য, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

‘ওয়াটার সেফটি’ সচেতনতায় জোর দিচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১০:১৫, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

খোলা জলাশয়ে সাঁতার নয়, নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়ার আহ্বান

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনার পর কমিউনিটির শিশু, কিশোর, তরুণ বয়সী এবং পরিবারগুলোর মধ্যে পানি নিরাপত্তা বা ‘ওয়াটার সেফটি’ বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বিভিন্ন উদ্যোগ জোরদার করেছে। গরমের সময় শীতল হতে গিয়ে যেন কেউ ঝুঁকিপূর্ণ খোলা জলাশয়ে সাঁতার কাটার সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য কাউন্সিল বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমান গরম আবহাওয়ায় নদী, লেক, খাল, কুয়ারি বা রিজার্ভারের মতো উন্মুক্ত জলাশয় অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তবে এসব স্থানে এমন অনেক ঝুঁকি থাকে যা ওপর থেকে দেখা যায় না। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা স্রোত, হঠাৎ গভীর হয়ে যাওয়া অংশ, ঠান্ডা পানির কারণে ‘কোল্ড ওয়াটার শক’ এবং পানির নিচে থাকা বিভিন্ন বিপজ্জনক বস্তু বা আবর্জনা মুহূর্তের মধ্যে জীবনহানির কারণ হতে পারে।

প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা গুরুতর আহত হয় বা প্রাণ হারায়। এ কারণে লাইফগার্ডবিহীন অথবা অনুমোদিত নয় এমন কোনো স্থানে পানিতে নামার ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কাউন্সিল বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, অনুমোদনহীন জলাশয়, খোলা খাল, শ্যাডওয়েল বেসিন বা অন্য কোনো উন্মুক্ত পানির স্থানে সাঁতার কাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পানির প্রকৃত গভীরতা বোঝা যায় না এবং পানির নিচে থাকা বস্তুগুলো সাঁতারুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া গরম আবহাওয়ার মধ্যেও উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি অনেক বেশি ঠান্ডা থাকতে পারে, যা শরীরে আকস্মিক শক সৃষ্টি করে এবং ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

সম্প্রতি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক তরুণের পরিবারের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান এবং কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে এই কঠিন সময়ে পুরো কমিউনিটি তাদের পাশে রয়েছে। আলোচনায় খোলা জলাশয়ে সাঁতার কাটার ঝুঁকি সম্পর্কে আরও ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কমিউনিটি, জমির মালিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংগঠন এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে পানি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লক্ষ্য একটাই, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের হৃদয়বিদারক ক্ষতির মুখোমুখি না হয়।

বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিলের নিরাপত্তা পরামর্শ হলোঃ নিরাপদ ও তত্ত্বাবধানযুক্ত সুইমিং ভেন্যু ব্যবহার করুন। খোলা জলাশয়ে সাঁতার এড়িয়ে চলুন। কোনো কারণে পানিতে বিপদে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে ‘ফ্লোট টু লিভ’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন। পাশাপাশি সবসময় সতর্কতামূলক সাইন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন।

কাউন্সিল সবাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মনে রাখুন, সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত একটি জীবন বাঁচাতে পারে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর