img

ইরানের বিপক্ষে যুদ্ধে সমর্থন নেই অধিকাংশ আমেরিকানের

প্রকাশিত :  ১৭:৫৩, ২৫ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৮, ২৫ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের বিপক্ষে যুদ্ধে সমর্থন নেই অধিকাংশ আমেরিকানের
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় আমেরিকানদের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। 

রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ পরিচালনায় পরিচালিত চার দিনব্যাপী সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে এই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। 

প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩১ শতাংশ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মার্চ মাসে ছিল ৩৭ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও যুদ্ধের প্রতি সমর্থন ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। 

টানা দুটি জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সার্বিক কাজের প্রতি সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ আমেরিকান নাগরিকের, যা তার ক্ষমতার দুই মেয়াদ মিলিয়ে সর্বনিম্ন। 

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে এই যুদ্ধকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালিসহ আশপাশের বাণিজ্যিক রুটে ইরানের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তীব্র চাপ তৈরি করেছে। এই অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। 

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ আমেরিকানই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

ভোটের আগে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা ট্রাম্প ও তার দলের প্রার্থীদের জন্য কঠিন বার্তা বহন করছে। নির্দলীয় স্বাধীন ভোটারদের সিংহভাগই এখন ট্রাম্পের দলের পরিবর্তে বিরোধী শিবিরের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত :  ১৯:৩৩, ২৫ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের বৈধ অর্থনৈতিক সহযোগিতায় কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও অবস্থান জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এতে উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব আশপাশের অঞ্চল ও বিশ্বের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ সমস্যার সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। এগুলো কেবল উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বাড়াবে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা নিয়ে লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের এই সহযোগিতা চলে আসছে। তাই এটি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা
হাজার মাইল দূরের মার্কিন যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানতে পারবে চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র

তিনি আরও বলেন, ইরান নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিং। নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার সকালে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরান থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।

ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরান থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৯ থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি হয়ে থাকতে পারে। এর সিংহভাগই কিনেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন।

ইরানের সঙ্গে চীনের জ্বালানি সম্পর্কের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া ও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথ বর্তমানে ইরান যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

এপ্রিল মাসে প্রকাশিত নোমুরার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২৩ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ফলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু তেহরানের অর্থনীতির ওপরই নয়, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র : সিএনএন

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর