সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ওমানের মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
আজ বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই যাত্রীর মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মৃত্যুবরণ করা ছানোয়ারা বেগমের বাড়ি চট্টগ্রামে বলে জেনেছি। বিস্তারিত ঠিকানা এখনো পাইনি। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অন্য যাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে ফ্লাইটটি মাস্কাট থেকে যাত্রা করেছে। আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।’
চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ পরিবারের চার সদস্যের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (২৬ আগস্ট) তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে তারা নিখোঁজ নাকি আর্থিক সংকটের কারণে সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
এর আগে পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিখোঁজ অন্যরা হলেন- তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস।
এদিকে গণমাধ্যমে পাটোয়ারীর বাড়ির জনৈক ব্যক্তির হুমকি ধমকির পর পিন্টু দাসসহ তার পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন সংবাদ নজরে এলে খোঁজ মেলে সেই পাটোয়ারীর। তার পুরো নাম আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি।
তিনি জানান, পিন্টু দাস থেকে স্বর্ণালংকার বাবদ ৬ লক্ষাধিক টাকা পান। যার স্ট্যাম্প রয়েছে এবং জিম্মাদার পিন্টুর স্ত্রী রিমি। যেখানে জুয়েলারি সমিতির নেতারাও স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই টাকা চাইলে ২০ দিনের সময় নেন পিন্টু। আর এর পরই পিন্টুসহ তার পরিবার নিখোঁজ হন। এখন পিন্টুর সন্ধান চান ভুক্তভোগী এই পাটোয়ারীসহ জুয়েলারি সমিতির নেতারাও।
চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, ‘পিন্টু তাদের সমিতির সাধারণ সদস্য। তবে কার্যকরী কমিটির কেউ নন। এখন সে নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে তা পুলিশ উদ্ধারের পর জানা যাবে। তবে তার অনেক দেনা পাওনা ছিলো বলে আমরাও প্রাথমিকভাবে জানতে পারি।’
সরজমিনে দেখা যায়, পিন্টু দাস শহরের হোল্ডিং নাম্বার-৫৮ এর সৌরভিলা ভবনের ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে তার ইউনিটটি তালাবদ্ধ। এমনকি মদিনা মার্কেটের তার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এস কে শিল্পালয়ও তালাবদ্ধ। তার এবং তার পরিবারের এরূপ নিখোজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শহরসহ ব্যাবসায়িক অঙ্গনে।
চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বলেন, ‘পিন্টুরা আমাদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। তাদের এমন নিরুদ্দেশ আমাদেরকে ভাবাচ্ছে।’
পিন্টুর বাড়িওয়ালা রাসেল বলেন, ‘২০২৫ এর ডিসেম্বরে পিন্টু বাসা ভাড়া নেয়ার পর সবসময়ই তা পরিশোধ করতেন। তার আচার ব্যবহার ভালো ছিলো। তবে গেলো বৃহস্পতিবার থেকে পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় পাওয়াদারদের আসতে দেখে কিছুটা বিচলিত হই। এরপরই দেখি তার বাসা তালাবদ্ধ।’
জানা গেছে, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতো। দীর্ঘদিন তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে সে স্বর্ণ আর ফেরত দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হওয়ার খবর রয়েছে। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নীচ তলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিলেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন তার চার ভাগের একভাগ টাকা মানুষকে দিতেন। তার থেকে রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান, দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম, শুভংকর মজুমদারসহ অনেকেই টাকা পাবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে পুলিশ।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ হোক বা আত্মগোপন এখন পিন্টু দাসসহ তার পরিবারকে সবাই সশরীরে দেখতে চায়। পিন্টু দাসের স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রাম এবং তার স্ত্রী রিমির বাড়ি কুমিল্লা বলে খবর পাওয়া গেছে। তাই দ্রুতই পিন্টু দাসসহ তার পরিবারকে খুঁজে বের করে সব প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।’
এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিন্টুসহ তার পরিবারের কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।