img

ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক স্থায়ী বহিষ্কার

প্রকাশিত :  ১৯:২৪, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক স্থায়ী বহিষ্কার

প্রবাসীর পাঠানো স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক শিবলুর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ–উর–রহমান লিপকন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়াপ্রবাসী কাউসার হোসেন তার বোনের বিয়ের জন্য এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে দেশে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। বিমানবন্দর থেকে সেই স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন প্রবাসীর ছোট ভাই মো. সুমন ও তার বন্ধু রোহান। বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসার পর তাদের পথরোধ করেন ছাত্রদল সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেল।

অভিযুক্তরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে এবং সঙ্গে বোমা থাকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধরের একপর্যায়ে তারা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট ভুক্তভোগী মো. সুমন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের ১ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে আল আমিন হোসেন শান্ত ও বিএনপি নেতা আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ সোমবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন যে বাদীর সঙ্গে আসামিদের বাইরে আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে। তবে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সাগর-রুনী হত্যার দুই দিন আগে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে নেওয়া হয় দুটি সিডি, কী ছিল এতে?

প্রকাশিত :  ০৬:৩২, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে দুটি সিডির তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে সামরিক এক কর্মকর্তার নির্দেশে তাঁর এক সহকারী সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে সিডি দুটি সংগ্রহ করেছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওই সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে একজন সার্জেন্ট রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি সিডি নিয়ে যান। এর দুই দিন পর, ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী।

তবে ওই দুটি সিডিতে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, সিডিগুলোতে তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ডকুমেন্টারি বা নথি থাকতে পারে। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই সিডির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও এখন যাচাই করা হচ্ছে।

সম্প্রতি অন্য একটি মামলার তদন্তে কল ডিটেইল রেকর্ড পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচীর যোগাযোগের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার কথা জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

তিনি জানান, পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তকারীরা বিষয়টি যাচাই করবেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাঁদের যোগাযোগের সঙ্গে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সাগর ও রুনীর দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মোবাইল ফোন নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ডিভাইস এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে রুনীর মোবাইল ফোন ও বাসায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার অক্ষত ছিল। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এসব বিষয়ও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যোগাযোগ, সিডি এবং নিখোঁজ ডিভাইসসহ প্রতিটি বিষয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে।

সাগর-রুনী হত্যা মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অন্য মামলার তদন্তে পাওয়া সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পিবিআইকে দেওয়া হবে।


জাতীয় এর আরও খবর