img

নেপালে ভয়াবহ ঢল: ৯ দিন পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৭:৩৭, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ ঢল: ৯ দিন পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের নয় দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো সেখানে বহু শ্রমিক আটকা রয়েছেন। দেশটির একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ার নয় দিন পর এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলী নদী করিডরে অবস্থিত ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন যান্ত্রিক ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহার্জন। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

নেপালের ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের ভেতর থেকে ওই দুইজনকে অল্প সময়ের ব্যবধানে উদ্ধার করা হয়। সেখানে নিখোঁজ ৪২ শ্রমিকের সন্ধানে টানেল খনন করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকারীরা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় এক ডজন উদ্ধারকারী মাটির একটি ছোট গর্ত দিয়ে একজনকে বের করে আনছেন। নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর উদ্ধারকারীরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

জাতীয় স্বাধীন পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নিউপানে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি ঢলের পর থেকে তিনি অনুসন্ধান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার অভিযান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কবির মহার্জনকেও টানেল থেকে জীবিত বের করে আনা হয়।

নিউপানে জানান, টানেলের ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে তথ্য পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা জোরদার করে।

নিউপানের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে ডাক দিয়ে বলেছিল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ জবাবে ভেতর থেকে বলা হয়, ‘ঠিক আছে।’

পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছেন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার পুলিশ প্রধান বিপিন রেগমি বলেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে।

জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূগর্ভস্থ পাওয়ার হাউজে যাওয়ার টানেলটি চার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। ভয়াবহ বন্যার সময় সেখানে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত নেপালের কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ছিলেন। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে নদী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গত করতে দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। 

আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন অহরহ চলাচল করছে। তবে গাড়ির মান বা ফিটনেস নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ট্রাফিক পুলিশ মূলত আইন ভঙ্গ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। প্রতিবছর গাড়িগুলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নেয়। সাধারণত গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা হলে কালো ধোঁয়া বের হয়। আবার জ্বালানির মান ভালো না হলেও দ্রুত ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত মামলা করছে। মামলার পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব হলেও, শুধু পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ, ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন বা নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শব্দ দূষণের জন্য গত মাসে প্রচুর মামলা হয়েছে। 

আনিছুর রহমান বলেন, আমরা নীরব এলাকা ঘোষণা করেছি, সাইনবোর্ড দিয়েছি। কিন্তু ওই সাইনবোর্ড কেউ পড়ে না। নীরব এলাকা শুরু কোনটা, শেষ কোনটা—এটাও কেউ দেখে না। কেউ সারাক্ষণ হর্ন বাজাচ্ছে। এজন্য যদি আপনি মামলা করতে চান তাহলে আবার প্রমাণ দরকার।


জাতীয় এর আরও খবর