img

স্ত্রীর সামনেই সাগরে তলিয়ে গেল ‘ভালো সাঁতার জানা’ স্বামী

প্রকাশিত :  ১৫:৫০, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর সামনেই সাগরে তলিয়ে গেল ‘ভালো সাঁতার জানা’ স্বামী

ভোলা জেলার বাসিন্দা শামীম (২৬) চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন । জানতেন ভালো সাঁতারও। কিন্তু কক্সবাজারের পেকুয়ার উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা লঞ্চঘাটে ডেনিস বোটে ওঠতে গিয়ে পা পিছলে সাগরে পড়ে মুহূর্তে তলিয়ে যান তিনি। অসুস্থ স্ত্রীর চোখের সামনে সাগরের অথৈ জলে ডুবে গেলেও কিছুই করার ছিল না তার।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মগনামা লঞ্চঘাটে ডুবে যাওয়া শামীমকে রাত ১২টা পর্যন্ত খুঁজেও উদ্ধার করতে পারেননি দমকল ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা।

তবে, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচে ডুবে যাওয়া স্থান থেকেই তার মরদেহ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরি দল। চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল সকাল ৬টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছিলেন।

বিয়ের একবছর পর স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে সলিলসমাধি হওয়া শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। গার্মেন্টসে চাকরি করা কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং মংলারপাড়ার মেয়ে করিমা বেগমকে বিয়ে করে চট্টগ্রামেই বাস করতেন। স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনায় পড়ে জীবনের ইতি টানেন তিনি।

শামিমের স্ত্রী করিমা বেগম জানান, প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে আর শামিম চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। শনিবার শামীমকে কুতুবদিয়া যাবার জন্য মগনামা জেটিঘাটে বোটের অপেক্ষায় ছিলেন। বেলা ৩টার দিকে বোট ঘাটে পৌঁছালে তারা বোটে ওঠার জন্য ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

‎করিমা বলেন, স্বামী শামীম ভালোই সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালালেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও নৌবাহিনীর একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হলেও ডুবুরি দল না থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, শনিবার ঘাটে পা পিছলে পড়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ রোববার সকালে উদ্ধার হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

‘ইমরান, দৌড় দিবি না’ বলে গুলি, যাত্রাবাড়ীতে যুবক খুন, আহত ১

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৬, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত কয়েকজন সন্ত্রাসীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও একজন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধলপুরের সরদার গলিতে গুলি ও খুনের এ ঘটনা ঘটে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিব বলেছেন, গুলিতে হতাহতের ঘটনার তদন্তে তারা কাজ শুরু করেছেন।

খুনের শিকার ব্যক্তি সাগর খান ইমরানের বয়স আনুমানিক ৪০ হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত ৩২ বছর বয়সি বিদ্যুৎ জাকারিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত জাকারিয়া হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, উত্তর ধলপুরের সরদার গলিতে ৬/৭ জন হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি ‘ইমরান দৌড় দিবি না’ বলে এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এসময় তার হাতে ও পায়ে গুলি লাগে।

গুলির পর আহত অবস্থায় ইমরানকে ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান জানান, নিহত ইমরানের মাথায় গুলি লেগেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। আহত জাকারিয়ার বাম পায়ে ও ডান হাতে গুলি লেগেছে। তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জাকারিয়ার স্ত্রী ঝিনুক আক্তার বলেন, ধলপুর সরদার গলিতে তার স্বামী জাকারিয়ার রিকশার গ্যারেজের ব্যবসা রয়েছে। রাতে গ্যারেজের সামনে ইমরানসহ তার স্বামী বসা অবস্থায় ছিলেন। এসময় হেলমেট পরিহিত ৭/৮ জন চারটি মোটরসাইকেলে এসে তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

 


বাংলাদেশ এর আরও খবর