img

ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার নির্বাচন

প্রকাশিত :  ১৯:১০, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:২৫, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার নির্বাচন

বাহুবল উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রসার ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় নিয়ে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকা-এর নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন ও সাধারণ সভা আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর হোটেল উসমানী ইন্টারন্যাশনালে সংগঠনের নির্বাহী কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কর্নেল (অব.) ডা. শাহ আবিদুর রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, সংগঠনের ব্যাংক হিসাব, সদস্য সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাহী কমিটির নির্বাচন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নাজমুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলম কবির, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নেওয়াজ চৌধুরী, প্রকাশনা সম্পাদক মোশায়েদ উদ্দিন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শাহ আব্দুল আজিজ এবং নির্বাহী সদস্য পারভেজ চৌধুরী, সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ ও জুবায়ের চৌধুরীসহ অন্যরা।

বক্তারা বাহুবল উপজেলার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং মানুষের কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ঢাকায় বসবাসরত বাহুবল উপজেলার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে বাহুবলের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে যারা সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করবেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সংগঠনের সাধারণ সভা ও নির্বাহী কমিটির নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মোশায়েদ চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় মো. মহিবুর রহমান তালুকদারের আজীবন সদস্যপদের আবেদন অনুমোদন করা হয়।

এ ছাড়া সংগঠনের প্রকাশনা সম্পাদক মোশায়েদ উদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ডাক্তার ছাইদুননেছা এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক নেওয়াজ চৌধুরীর সহধর্মিণী সালেহা বেগম চৌধুরীর মৃত্যুতে সভায় শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

জালালাবাদ হেলথ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মনোনীত হওয়ায় সংগঠনের সভাপতি কর্নেল (অব.) ডা. শাহ আবিদুর রহমানকে এবং সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলম কবিরকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।

সভা থেকে ঢাকায় বসবাসরত বাহুবল উপজেলার আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাহুবল উন্নয়ন ফোরাম ঢাকা-এর সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের আজীবন সদস্য ফি ৩১০০ টাকা এবং সাধারণ সদস্য ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহীরা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ। পরে আর কোনো আলোচ্য বিষয় না থাকায় সভাপতি কর্নেল (অব.) ডা. শাহ আবিদুর রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ওলামাদের বাধা: দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

প্রকাশিত :  ১৬:৫১, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে স্থানীয় ওলামাদের আপত্তির মুখে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকদের ভাষ্য, স্থানীয় আলেম-ওলামাসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খেলাটি বন্ধের দাবি জানান। পরে পুলিশও খেলা স্থগিত করার কথা বললে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিত করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় কিশোরীদের ফুটবল খেলা আয়োজন করছে সংগঠনটি। জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এলাকার কিশোরীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল।

রাকিব আহমেদ বলেন, সোমবার সকালে ইউএনও সাহেব বলেছেন, যেহেতু দুটি পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলাটি আয়োজন করা হলে ভালো হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করতে বলা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা খেলাটি স্থগিত করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে হবে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, পাঁচ-ছয় দিন আগে উপজেলা স্টেডিয়ামে কিশোরীদের ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নেন আয়োজকরা। ম্যাচ নিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপরই ওলামাদের একটি দল আমার সঙ্গে দেখা করে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘আয়োজক সংগঠনটি অনেকদিন ধরে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে। তবে সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়। ওলামাদের দাবির মুখে আয়োজকদের জানাই, যেহেতু দুইপক্ষই স্থানীয়, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে। পরে আয়োজকরা ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করেন।’

এ ব্যাপারে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন বলেন, আগে শুনেছিলাম কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। পরে মাইকিং করে মহিলাদের ফুটবল খেলা। এর আগে স্থানীয় কিশোরীরা দিরাইয়ে ফুটবল খেলেছে, আমরা বাধা দিইনি।

তিনি বলেন, দিরাইয়ে এর আগে মহিলাদের ফুটবল খেলা হয়নি। মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি, অশ্লীলতা হবে, এটা আমরা মানতে পারি না। আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আয়োজকরা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ছিলাম। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আয়োজকরাই ম্যাচ স্থগিত করে দেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর