img

হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ

ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন তিনি। সুখবরটা আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন নতুন বল এলেই বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে আসবে। কিন্তু সেটা এভাবে, তা কে জানত!

সে অবিশ্বাস্য কাজটাই করে বসেছে বাংলাদেশ। ৭ বলের এদিক ওদিকে তুলে নিয়েছে আফগানদের ৪ উইকেট। তবে এই কীর্তি গড়া সম্ভব হয়েছে হাসান মাহমুদের কল্যাণে। এক ওভারেই যে তিনি শেষ করে দিয়েছেন আফগানদের লোয়ার মিডল অর্ডারের পুরোটা!

শুরুটা করেছিলেন ইসমাত আলমকে বোল্ড করে। দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে তিনি পরাস্ত করেন আফগানদের নতুন ব্যাটারকে। 

পরের বলে পালা আসে কাইস আহমেদের। তার সর্বনাশ করল হাসানের এক আউটসুইঙ্গার। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে গিয়েছিল পেছনে। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। 

এরপরের বলে নতুন ব্যাটার জিয়া আকবর পরাস্ত হন ভেতরে আসা বলে। তার প্যাডে লাগলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সেখানে দেখা যায় পিচিং, ইমপ্যাক্ট আর হিটিং সবকিছুতেই জ্বলেছে লাল বাতি। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় হাসানের হ্যাটট্রিক।

টেস্টে বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক দেখেছে আরও দুটি। ২০০৩ সালে প্রথম হ্যাটট্রিকটা করেছিলেন অলক কাপালি, এরপর ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী। তবে কোনো পেসার এই কীর্তি গড়তে পারেননি। আজ সে অজেয় পর্বতচূড়া জয় করলেন হাসান মাহমুদ। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন নিজের।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের ইতি টানলেন মেসি

প্রকাশিত :  ০৫:৫২, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল গোল, অ্যাসিস্ট আর আবেগে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে বেনিনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বিদায়ের আবহ। ম্যাচ শুরুর আগে বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি মাঠে মেলে ধরা হয়। আর ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে মেসিকে এক মিনিট ধরে সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাননি মেসি। ৭ মিনিটে তার দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

তবে বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে আসে গোলটি।

এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন নিকো পাজ। বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস পেয়ে পাজ বল নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বেনিনের জালে পাঠান। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি।

এর ১১ মিনিট পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১২৬তম গোল।

শেষ দিকে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও শট বাইরে মারেন তিনি। গোলটি হলে বিদায়ী ম্যাচে তার পারফরম্যান্স আরও বর্ণিল হয়ে উঠত।

ম্যাচের আগে মেসি নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর কেটে গেছে ২১ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা।

অবশেষে সেই বিদায়ও হলো তার চেনা ছন্দে- গোল ও অ্যাসিস্টে। নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার সময় তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় হয়নি; শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে এক কিংবদন্তির মহাকাব্যিক অধ্যায়ের।


খেলাধূলা এর আরও খবর