img

তাহলে কি ভেঙে যাচ্ছে সাবিলার ৭ বছরের সংসার?

প্রকাশিত :  ০৬:৪৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

তাহলে কি ভেঙে যাচ্ছে সাবিলার ৭ বছরের সংসার?

শোবিজ অঙ্গনে একের পর এক তারকার দাম্পত্য টানাপড়েন ও বিচ্ছেদ সংবাদের মাঝে এবার আলোচনায় এসেছে ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরের নাম। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপড়েন এবং আলাদা থাকার গুঞ্জন নিয়ে বিনোদনপাড়ায় তুমুল চর্চা চলছে। সাত বছরের প্রেমের পর ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা জুটির বিচ্ছেদ এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে বাতাসে খবর ভাসছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাবিলা নূরের দাম্পত্য কলহের পেছনে রয়েছে শোবিজপাড়ারই একজন ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) আবদুল মামুনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা। ‘রকস্টার’ সিনেমার দৃশ্যধারণের সময় কাজের সূত্রে দুজনের পরিচয় ঘটে, যা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নেয়। কাজের সেটে তাদের এই ঘনিষ্ঠতা পুরো টিমের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিট সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটায় প্রযোজনা পক্ষ তাকে পরিবর্তনের কথাও ভেবেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার স্বার্থেই বিষয়টি চেপে রাখা হয়।

এদিকে অভিনেত্রীর এই নতুন সম্পর্কের প্রভাব কেবল তার নিজের সংসারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর ফলে তিশা নামের এক তরুণীর দীর্ঘ সাত বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক ও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া বিয়ে ভেঙে গেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। সহকারী পরিচালক থেকে প্রযোজনা জগতে আসা তিশা জানান, ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই মে মাসের ১৫ তারিখে ডিওপি আবদুল মামুনের সঙ্গে তার সামাজিক বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিল।

গণমাধ্যমে ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিশা অভিযোগ করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে মামুন হঠাৎ করেই তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও তার মন ঘোরানো সম্ভব হয়নি।

তিশার ভাষ্য, ‘সাবিলা নূর আমাদের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের কথা পুরোপুরি জানতেন। একজন নারী হয়েও তিনি আরেকজন নারীর ক্ষতির কথা ভাবেননি। মামুন একজন বড় তারকাকে পেয়ে আমার সাত বছরের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কোনো মূল্য দিল না।’ তিশা আরও জানান, মামুনের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করেই তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পূর্বনির্ধারিত বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও মামুনের প্রতি আবেগ থেকে তিনি তাতে সম্মতি দেননি।

উল্লেখ্য, সাবিলা নূরের দাম্পত্য দূরত্বের খবর প্রকাশ্যে আসার শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহশিল্পী শাকিব খানের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে কিছু জল্পনাকল্পনা ছড়ানো হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, শাকিব খানের বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও নিছক গুঞ্জন ছিল। পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে মূলত সংশ্লিষ্ট ডিওপির সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কই প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

চলমান এই বিতর্ক, দাম্পত্য কলহ এবং নতুন সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে গণমাধ্যম থেকে চলচ্চিত্রটির পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান।

অন্যদিকে ব্যাপক আলোচনা ও অভিযোগের মুখেও অভিনেত্রী সাবিলা নূর কিংবা তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ আসেনি।


বিনোদন এর আরও খবর

img

ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন মেহজাবীন

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের অসম্মানকে উপার্জনের মাধ্যম বানানোর সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। মেহজাবীন স্পষ্ট জানান, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনো বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’

তবে কেবল অপরাধীর ভূমিকা নিয়েই নয়, সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সার্বিক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে, যখন এই ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করে, তখন তা আর একজন নির্দিষ্ট অপরাধীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সমাজ হিসেবে আমাদের নৈতিক পতনের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত এক ধারণার সমালোচনা করে মেহজাবীন বলেন, কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান জানাতে হলে তাকে নিজের মা বা বোনের জায়গায় বসিয়ে ভাবতে হবে কেন? যেকোনো মানুষকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে সম্মান দেওয়াটাই স্বাভাবিক মানবিক আচরণ হওয়া উচিত।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির বাস্তবতাকে স্বীকার করলেও এর পেছনের ক্ষতিকর মানসিকতার ওপর আলো ফেলেন অভিনেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কনটেন্ট তৈরি অনেকেরই জীবিকা নির্বাহের উপায়। তবে কয়েক ডলার আয়, কিছু ভিউ, লাইক কিংবা ট্রেন্ডিংয়ে থাকার লোভে অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে ফেলা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।

এই প্রবণতা এখন কেবল নারী বা পুরুষের নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে নেই উল্লেখ করে মেহজাবীন জানান, ভিউ ও এনগেজমেন্টের ইঁদুরদৌড় লিঙ্গের সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে। এখন যে কেউই এই ক্ষতিকর সংস্কৃতির শিকার হতে পারেন, আবার যে কেউই না জেনে এর অংশ হয়ে উঠতে পারেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে পোস্টের শেষ দিকে অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, যারা জেনেশুনে এসব কনটেন্ট শেয়ার করে অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তারা মূলত অপরাধীর অপকর্মেই সহায়তা করছেন। একজন অপরাধীর চক্রে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় মানুষ দেবে কি না, তা সবাইকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সম্মান, পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যেন হারিয়ে না যায়, মেহজাবীনের এই ফেসবুক বার্তায় মূলত সেই বার্তাই উঠে এসেছে।