img

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজ

প্রকাশিত :  ১৫:৩৮, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মস্কোর মধ্যে স্বাক্ষরিত এক আকস্মিক চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রথম রুশ ডিজেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজ নিউইয়র্কের পথে রওনা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এই চুক্তির সুবিধার্থে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি ধারা শিথিল করেছেন। পাশাপাশি জরুরি মজুত থেকে বাজারে আরও বেশি জ্বালানি সরবরাহ করতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাগিদ দিয়েছেন; অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের দেশে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এলএসইজি শিপিং ডেটা অনুযায়ী, মাল্টার পতাকা বহনকারী মাঝারি আকারের ট্যাঙ্কার ‘আগিওই ফ্যানেন্দেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর প্রিমোর্স্ক থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আল্ট্রা-লো সালফার ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটি আগামী ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পণ্যটির ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রথম রুশ তেলের চালান।

এর আগে ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার এক কনফারেন্স কলে প্রথম জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের উদ্দেশে নাকি অন্য কোথাও যাচ্ছে তা স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, আমার জানামতে, জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে রিপোর্ট এসেছে যে প্রথম ট্যাঙ্কারটি ক্রেতাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিত গতিতেই এই সরবরাহ বজায় থাকবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের জারি করা স্বতঃস্ফূর্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রুশ তেল আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে মস্কো মূলত তুরস্ক, ব্রাজিল এবং আফ্রিকান দেশগুলোতে ডিজেল রপ্তানি করে আসছিল। এছাড়া রেলযোগে মধ্য এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

এলএসইজি এবং কেপলারের শিপিং ডেটা অনুযায়ী, মস্কো তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর রুশ ডিজেলবাহী জাহাজগুলো আবার তাদের পুরোনো গন্তব্যগুলোতে ফিরে যেতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অন্তত দুটি জাহাজ তুরস্ক ও ব্রাজিলের দিকে যাওয়ার সংকেত দিয়েছে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে আরও চালানের পথ সুগম হবে।  


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনে ট্রাম্পের প্রস্তাব, রাজি হননি গুগল সিইও

প্রকাশিত :  ১২:৫২, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগরের নাম নিজের নামে কিংবা ‘আমেরিকা’ যুক্ত করে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন গুগলকে। তবে গুগল ম্যাপসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের দাবি- গুগলের সিইওর সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটি বিবেচনা করতে পারবে কি না।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দুটি মহাসাগরই পছন্দ করি- আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর। অন্য কোনো মহাসাগরের নামের সঙ্গে ট্রাম্প বা আমেরিকা যুক্ত করতে চাই না। তাই আমরা আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলাম।’

এ সময় গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, উপসাগরের নাম পরিবর্তনের পর গুগল এখনো সেই ঘটনা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এরপর তিনি সুন্দর পিচাইকে বলেছিলেন, ‘সুন্দর, আমি আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছি।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি গুগলের সিইও। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে পিচাই বলেন, ‘না, না, না। এবার আমি এটা করছি না। মহাসাগরের বিষয়টি আলাদা। এগুলো অনেক দেশের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে রয়েছে। দয়া করে আমাদের এমন কিছু করতে বলবেন না।’

এরপর ট্রাম্প বলেন, প্রস্তাবটি থেকে তিনি সম্ভবত সরে আসবেন। সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, তার এ প্রস্তাব বাদ দেওয়া উচিত কি না। পরে আটলান্টিক মহাসাগরের বর্তমান নামই রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। পরে গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নামটি প্রদর্শন করা হয়। তবে মেক্সিকোর ব্যবহারকারীরা আগের নামই দেখতে পান। অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নাম প্রদর্শনে ভিন্নতা রয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। এ নাম ব্যবহারে মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনাও জারি করেন তিনি।

ট্রাম্পের এসব নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে মেক্সিকো ও কানাডাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়েছে। গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানের নাম নতুনভাবে দেখানো হলেও অনুসন্ধানের ফলাফলে মূল নামটি বন্ধনীর মধ্যে রাখা হয়। অন্যদিকে মেক্সিকো ও কানাডার ব্যবহারকারীরা আগের নাম দেখতে পান।

এর আগে হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তনের কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যায় কি না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো এ নামও আগের চেয়ে বেশি ‘আলোচিত’ হবে।