img

‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

প্রকাশিত :  ১০:৫৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিতে বলা হয়েছে, আজ শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে তাঁর ‘লাশ পড়ে থাকবে’।

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন  বলেন, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিও তাঁকে (ওসি) পাঠানো হয়েছে। অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

হুমকির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আফসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল আসামি সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম নিয়ে তাঁদের নেতৃত্বেই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা চালানো হয়েছিল। এখন তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, হুমকিদাতা সালাম দিয়ে আফসারকে বলছেন, ‘ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’

এ সময় বাদী বলেন, ‘কোনটা ভাই?’ জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘কোনটা আপনি বোঝেন না?’

এরপর ওই ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বাদীকে বলেন, ‘কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।’

পরে বাদী এই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘তোর বাপ বলছি।’ এ কথা বলে তিনি আবার গালাগাল করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সাথে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’

ব্যবস্থাপক আফসার আবার পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নাম-পরিচয় জানোস না, কেডা ফোন দিতে পারে?’

এ সময় বাদী নিজে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানান। তখন মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’ এরপর হুমকি দেওয়া ব্যক্তি ফোন কেটে দেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’—এই কথা বলে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয়। তবে এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জাতীয় এর আরও খবর

img

একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির

প্রকাশিত :  ১১:০৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের ধারাবাহিক ভুল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিরোধী দল নীরব থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াত। সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন জানালেও ভুলের সমালোচনা করতে পিছপা হবেন না তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ, গণমাধ্যম, প্রবাসীদের অধিকার এবং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আর আমরা কি বসে থাকব? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে? সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?’

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে এমন পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সরকারি দলের সব কাজকে ভালো এবং বিরোধী দলের সবকিছুকে খারাপ হিসেবে তুলে ধরা হতো। কখনো কখনো সরকারি দল বক্তব্য দেওয়ার আগেই বিরোধী দল সমর্থন জানিয়ে দিত। এখন জামায়াত প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে রয়েছে। কেউ চান, তারা সংসদে ভাঙচুর করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করুক। আবার সরকারি দল প্রত্যাশা করে, বিরোধীরা সব বিষয়ে সমর্থন দেবে। তবে এই দুই অবস্থানের কোনোটিই তারা গ্রহণ করবেন না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে কেন সাময়িকভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলো না।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের সম্পদ নন; বরং তারা সংশ্লিষ্ট দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নীতির প্রশ্নে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া ঠিক নয়।

নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সদস্যকে দল থেকে বাদ দিতে তারা ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। বহিষ্কৃত ওই ব্যক্তির সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানা যায়। তবে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে গণমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তারা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অতীতেও দলটি এভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


জাতীয় এর আরও খবর