img

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৩৫, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:১২, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন ও প্রণোদনা

তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে তরুণেরা কাজ করছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী তাদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। তাদের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতাও চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। অর্থের অভাবে যেন তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এভাবে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ সরকার প্রণোদনাসহ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেও তাঁর বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায় এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না। সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

img

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়ছে, সতর্ক করলেন রাজা চার্লস

প্রকাশিত :  ১৭:৫১, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ধ্বংস এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনকে বর্তমান সময়ের বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় ২৮তম কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ রাজা।

চার্লস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও ব্যবস্থাগুলো যখন চরম পরীক্ষার মুখে, তখন নৃশংস সংঘাত আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করছে। এসব সংঘাত মানুষের জীবন ধ্বংস করছে এবং বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের ধ্বংস এবং প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর একসঙ্গে মানবজাতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব সংকটকে তিনি ‘আমাদের সময়ের সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিশ্বের অভিন্ন সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার মতে, অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই সংস্থা।

বক্তব্যে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে পরিচালিত দাস ব্যবসার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেন তৃতীয় চার্লস। তিনি স্বীকার করেন, দাস ব্যবসার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখনো ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ কমনওয়েলথের বিভিন্ন দেশের সমাজে রয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের সেই লজ্জাজনক অধ্যায় আমার হৃদয়কে আতঙ্কিত করে এবং আমার আত্মাকে গভীর ব্যক্তিগত বেদনায় পূর্ণ করে।’

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জাতীয় এর আরও খবর