img

চুনারুঘাটে দুই তরুণীকে ৪ বন্ধু মিলে ‘ধর্ষণ’, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

প্রকাশিত :  ০৭:১৯, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

 চুনারুঘাটে দুই তরুণীকে ৪ বন্ধু মিলে ‘ধর্ষণ’, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জের নতুনব্রিজ সংলগ্ন খোয়াই নদীর বাঁধ এলাকায় দুই তরুনীকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) করিমপুর সড়কে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী আপন চাচাতো বোন।  

শুক্রবার রাতে নির্যাতনের শিকার দুই বোন চুনারুঘাট থানায় অভিযোগ করেন।  এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় পারভেজ মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ।

শুক্রবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জের উবাহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ ওই গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।  ভুক্তভোগী দুই তরুণী নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে একে অপরের চাচাত বোন। ওই দুইবোন রাজধানী মগবাজারে তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।  

দুই  তরুণী জানান, গত ১৫ জানুয়ারি রাত অনুমান ১২টার দিকে তারা ঢাকা থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ মোড়ে নামেন। পরে ৫০০ টাকা চুক্তিতে উবাহাটা গ্রামের ওস্তার মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক কামালের সিএনজি রিজার্ভ করেন ওই দুইবোন। রাত সাড়ে ১২ টায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ঢাকা রোডস্থ নতুন যাত্রী ছাউনির সামন থেকে অটোরিকশা (সিএনজি) যোগে নিজর বাড়ি নবীগঞ্জের দেবপাড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে নতুন ব্রীজের মুখে আসা মাত্রই সিএনজি চালক কামাল মিয়া বাই রোডের কথা বলে মহাসড়ক থেকে নেমে খোয়াই নদীর বাধে করিমপুর সড়কে প্রবেশ করেন। ব্রিজের অদূরে করিমপুর সংলগ্ন বাধেঁ গিয়ে সিএনজি বন্ধ করে দেন।

এ সময় কামালের বন্ধু রায়হান, পারভেজ ও শিবলু ওরফে শরীফ সঙ্গে ছিলেন। সেখানে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নগদ ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকাসহ জিনিসপত্র লুটে নেয়। ওই সময়ে তারা শোরচিৎকার শুরু  করলে ওই চক্রটি পালিয়ে যায়। পরে তারা সেখান থেকে অসুস্থ অবস্থায় এসে স্থানীয়দের অবগত করে অপর একটি গাড়িতে বাড়িতে পৌছান। বাড়িতে গিয়ে ওই দুই বোন বিষয়টি তাদের পরিবারের লোকজনকে অবগত করেন।  

এদিকে, অভিযু্ক্ত পারভেজ জানান, তিনি ধর্ষণ করেননি এবং  টাকাও নেননি সবকিছু তার বন্ধু কামাল করেছেন। দুই বোনের আত্মীয়-স্বজন জানান, তাদেরকে চারজন মিলে অমানুষিক নির্যাতন করে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়েছে। ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।

এ রিপোর্ট লেখাকালে দুই তরুণী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, ওই চক্রটি বেশ কিছুই ধরে গাড়ি চালানোর ফাঁকে যাত্রীদের সাথে অশুভ আচরণসহ গভীর রাতে নতুনব্রিজ পয়েন্টে করছেন নানা অপকর্ম। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ যাত্রী সাধারণ।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

img

শ্রীমঙ্গলের ডাকবাংলো পুকুর: অবহেলা থেকে সৌন্দর্যের নতুন ঠিকানার প্রত্যাশা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৩, ০৫ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: বাংলাদেশের পর্যটনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল। \r\nচা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে \r\nসারা বছরই এখানে ভিড় করেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। কিন্তু শহরের \r\nপ্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো পুকুর আজ সেই পরিচিত সৌন্দর্যের\r\n সঙ্গে যেন বেমানান এক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময় এলাকার অন্যতম \r\nআকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই পুকুর বর্তমানে অপরিচ্ছন্নতা, অযত্ন এবং প্রয়োজনীয়\r\n সংস্কারের অভাবে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়েছে। পানিতে ভাসমান \r\nআবর্জনা, অপরিকল্পিত পরিবেশ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন অবকাঠামো \r\nদর্শনার্থীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারছে না। ফলে পর্যটননির্ভর \r\nএকটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি যথাযথ পরিচর্যার দাবি জানাচ্ছে।

শহরের\r\n প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, ডাকবাংলো পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি \r\nশ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা \r\nসময় এই পুকুরকে ঘিরে মানুষের অবসরযাপন, সামাজিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক আবহ\r\n গড়ে উঠেছে। তাই এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণের \r\nসঙ্গেও সম্পর্কিত।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পরিকল্পিত উন্নয়ন করা\r\n হলে ডাকবাংলো পুকুর পাড় শ্রীমঙ্গলের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে \r\nপারে। পুকুরের পানি পরিষ্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি মাঝখানে \r\nএকটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপন করা যেতে পারে। রাতের সৌন্দর্য \r\nবাড়াতে উপযুক্ত আলোকসজ্জা, চারপাশে ফুল ও শোভা বর্ধনকারী গাছপালা, বসার \r\nজন্য বেঞ্চ এবং আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপিং যুক্ত করা হলে এলাকাটির সৌন্দর্য \r\nনতুন মাত্রা পাবে।

এ ছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ওয়াকিং \r\nট্র্যাক, শিশুদের জন্য ছোট বিনোদন কর্নার এবং পর্যটকদের জন্য ছবি তোলা ও \r\nবিশ্রামের উপযোগী স্থান নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস, চা-শিল্পের\r\n ঐতিহ্য এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তুলে ধরে নান্দনিক \r\nকারুকার্য সংযোজন করা গেলে এটি শুধু বিনোদনকেন্দ্র নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক\r\n পরিচয়ের স্থান হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

পর্যটন নগরীর মর্যাদা ধরে \r\nরাখতে শহরের উন্মুক্ত ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলোর উন্নয়নকে গুরুত্ব \r\nদেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগের \r\nমাধ্যমে ডাকবাংলো পুকুর পাড়কে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশে \r\nরূপান্তর করা সম্ভব। এতে একদিকে স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও হাঁটাচলার সুযোগ \r\nবাড়বে, অন্যদিকে পর্যটকদের জন্যও সৃষ্টি হবে নতুন আকর্ষণ।

শ্রীমঙ্গলের\r\n সৌন্দর্য শুধু চা-বাগান বা পাহাড়ে সীমাবদ্ধ নয়; শহরের প্রতিটি \r\nগুরুত্বপূর্ণ স্থানই এই পরিচয়ের অংশ। সেই বিবেচনায় ডাকবাংলো পুকুরকে \r\nনতুনভাবে সাজিয়ে তোলা গেলে এটি হতে পারে শ্রীমঙ্গলের গর্বের আরেকটি \r\nপ্রতীক—যেখানে ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও নাগরিক জীবনের সমন্বয় ঘটবে একই সঙ্গে।

শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় এমন উদ্যোগ এখন সময়ের দাবিই বলে মনে করছেন অনেকেই।

সিলেটের খবর এর আরও খবর