img

শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই এ সুগন্ধ ছড়াচ্ছে নাগলিঙ্গম গাছের শত শত ফুল

প্রকাশিত :  ১১:০০, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই এ সুগন্ধ ছড়াচ্ছে  নাগলিঙ্গম গাছের শত শত ফুল

সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : দেশ-বিদেশে চায়ের রাজধানী বলে খ্যাত ও পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ( বিটিআরআই) এ  নাগলিঙ্গম গাছে ফুটেছে শত শত ফুল। অপরূপ সৌন্দর্যে্র পাশাপাশি সুগন্ধ ছড়াচ্ছে ফুলগুলো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রয়েছে দুটি নাগালিঙ্গম ফুলের গাছ । একটি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনিস্টিটিউট -এর পুকুরের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে । যা\' হাজার ১৯৯৩ সালে চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন রোপণ করেছিলেন। অপরটি শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী গ্রামের সাবেক নৌকর্মকর্তা মোঃ গউছ উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে বিপন্নপ্রায় বৃক্ষ নাগলিঙ্গম। দুর্লভ নাগলিঙ্গম গাছে রাশি রাশি ফুল ফুটে। প্রায় ৫০ বছর আগে লাগানো এই গাছ এখন শত শত ফুলে পল্লবিত।

এই গাছের ফুলগুলো বেশ আকর্ষণীয়, চোখে পড়লেই পথচারীকে থমকে দাঁড়াতে হয়। ফুটবলের মতো জাম্বুরা আকৃতির ফলগুলো খয়েরি রঙের। এ গাছের বিশেষত্ব হচ্ছে, একই সময়ে ফল এবং ফুল শোভা পায়। নাগলিঙ্গম সৌরভের জন্যও সেরা। দিন-রাতের যে কোনো সময় নাগলিঙ্গম গাছের পাশ দিয়ে গেলে এর তীব্র ঘ্রাণের মাদকতা আপনাকে কাছে টানবেই। ফুলের সৌরভে রয়েছে গোলাপ আর পদ্মের সংমিশ্রণ।

নাগলিঙ্গম ফুল সারা বছর ফুটলেও গ্রীষ্ফ্মকাল হচ্ছে উপযুক্ত সময়। শীত এবং শরৎকালে গাছে অপেক্ষাকৃত কম ফুল ফোটে। নাগলিঙ্গমের টুকটুকে লাল ফুলগুলো খুবই সুন্দর, সবার দৃষ্টি কাড়ে। গাছগুলো মেহগনি গাছের মতো দীর্ঘ, মোটা এবং লম্বা।

নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম \'কুরুপিটা গুইয়ানেন্সিস\' (Couroupita Guianensis) এবং তা লিসিসিবেসি (Lecychibaceac) পরিবারভুক্ত। প্রায় তিন হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান বনের জঙ্গলে প্রথমে এই গাছের সন্ধান মেলে। গাছগুলো \'ক্যানন বল\' (কামানের গোলা) নামেও পরিচিতি। ভারতে নাগলিঙ্গমকে \'শিব কামান\' নামে ডাকা হয়।

দুর্লভ প্রকৃতির এ গাছের কাণ্ড থেকে শিকড়ের মতো বের হয়। সেই শিকড়ে ফুল ফোটে। একটি শিকড়ে অনেকগুলো ফুল থাকে। ফুলে ফুলে গাছের কাণ্ড আচ্ছাদিত হয়ে যায়।  

এই ফুলের রং লাল, গোলাপি আর হলুদ মিশ্রিত। আকারে বড়। পাপড়ি ছয়টি এবং তুলনামূলক ভারি। ফুলের মধ্যভাগে রয়েছে গর্ভাশয়। গর্ভাশয়টি সাপের ফণার মতো দেখতে। এর জন্যই হয়তো ফুলটির নাম ‘নাগলিঙ্গম’। 

ফুল শুকিয়ে গেলে তাতে গোলাকৃতির বাদামি-খয়েরি বর্ণের ফল হয়। এই ফল হাতির পেটের রোগের জন্য উপকারী। এর অন্য নাম হাতির জোলাপ।  

শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের   নাগলিঙ্গম গাছটি বিশাল আকৃতির। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের শত শত পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু এ গাছটি পরিদর্শনে আসেন। তারা নাগলিঙ্গম গাছ ও এর ফুলে আকৃষ্ট হন। নাগলিঙ্গম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।

নাগলিঙ্গম গাছের দেখা খুব বেশি মেলে না। দেশে শতাধিকের উপর এই গাছ রয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিবছর মার্চ থেকে জুলাই মাসে নাগলিঙ্গম ফুল ফোটে।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ঐতিহ্যবাহী আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে চারটি বিরল প্রজাতির নাগলিঙ্গম গাছ।

সত্তরের দশকে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃক্ষপ্রেমী প্রধান শিক্ষক প্রয়াত মতিউর রহমান তাঁর এক ছাত্রকে দিয়ে বিদেশ থেকে নাগলিঙ্গমের চারা এনে স্কুলের মাঠের পূর্ব প্রান্তে চারা রোপণ করলে সেই গাছের ফল থেকে এখন চারটি গাছ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় (সেগুনবাগিচা, ঢাকা), পি.জি হসপিটাল সি ব্লগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, নটর ডেম কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মহাখালী ডিওএইচএস,  দিনাজপুর রায়সাহেব বাড়ি লোকনাথ বাবা মন্দির,   মুন্সিগঞ্জ (বিক্রমপুর) এর শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে জমিদার সাহেব বাবুর দীঘির পাশে, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,  গাজীপুরস্হ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (BMTTI), বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, গফরগাঁও সরকারি কলেজ, নওগাঁ জেলার হাট নওগাঁ ঈদগা মাঠ, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজ, ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজ, রাজশাহীর 

শাহ্ মখদুম কলেজ, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, অযাচক আশ্রম-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়- মুরাদনগর, কুমিল্লা , চাঁদপুর জেলা প্রশাষকের বাসভবন,শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়া, কুমিল্লা,জাতীয় ঈদগাঁ, গাজীপুর বা জয়দেবপুর ভাওয়াল রাজার বাড়ি (বর্তমানে ডি সি অফিস), একমি ল্যাবরেটরি, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলাস্থ জয়াগ নামক গ্রামের গান্ধী আশ্রমে এবং ধামরাইসহ সারাদেশে প্রায় শতাধিকের উপর গাছ রয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত এই উদ্ভিদটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক। দক্ষিণ আমেরিকায় এ বৃক্ষেও কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা হয়।  সুগন্ধী ফুলের গাছ হিসেবে বাগানে বা বাড়ীর আঙ্গিণায় রোপন করা হয়। বিরল প্রজাতির এই ফুলের গাছ পৃথিবীর অনেক জায়গায় চাষ করা হয়। বিরল প্রজাতির এই ফুলের গাছ চাষ করেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

ওষুধ হিসেবে এ বৃক্ষের ফুল, পাতা এবং বাকলের নির্যাস এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহূত হয়। পেটের পীড়া দূরীকরণে এর জুঁড়ি নেই। পাতা থেকে উত্পন্ন জুস ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে খুবই কার্যকর। দক্ষিণ আমেরিকার সামানরা এর পাতা ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

রাতের আঁধারে পাইপ বেয়ে চারতলায়, শ্রীমঙ্গলের বাসায় ধরা দিল বিরল লজ্জাবতী বানর

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ২০ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: নিঝুম রাত। সবাই যখন ঘুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শ্রীমঙ্গলের একটি চারতলা ভবনের বাসায় দেখা মিলল অদ্ভুত এক অতিথির। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি প্রাণীটি কী। পরে ভালোভাবে দেখে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা— সেটি ছিল বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার বাসিন্দা সফেদ মিয়ার ভবন থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসার ভেতরে হঠাৎ অস্বাভাবিক নড়াচড়া টের পান তারা। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর চোখে পড়ে বড় বড় চোখের শান্ত স্বভাবের একটি প্রাণী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একটি লজ্জাবতী বানর।

ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েলকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকারীদের ধারণা, রাতের আঁধারে ভবনের সেনেটারি পাইপ বেয়ে উপরে উঠে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রাণীটি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, লজ্জাবতী বানর অত্যন্ত শান্ত ও নিশাচর প্রাণী। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে এসব প্রাণী এখন মাঝেমধ্যে লোকালয়ে চলে আসছে। সাধারণত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের সাতছড়ি ও রেমা-কেলেঙ্গা বনাঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।

প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে এমন বিরল প্রাণীর উপস্থিতি যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এনে দিয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর