img

সিগারেটের ব্যবহার হ্রাসে মূল্যস্তর কমিয়ে আনার দাবিতে তরুণ চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত :  ১১:১৩, ১০ মে ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৫, ১০ মে ২০২৫

সিগারেটের ব্যবহার হ্রাসে মূল্যস্তর কমিয়ে আনার দাবিতে তরুণ চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলন

সিগারেটের সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য ক্ষতিকর। এই সহজলভ্যতা কমাতে সিগারেটের ওপর কার্যকর করারোপ এবং মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাই আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি আনা এবং দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তরুণ চিকিৎসকরা।

আজ শনিবার (১০ মে ২০২৫) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তারা। তারা বলেন, তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সিগারেটের কর কাঠামোর সংস্কার এবং মূল্য বাড়ানো হলে সিগারেট ব্যবহারকারীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এবং প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তরুণ চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে সিগারেট অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য। এর নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম মূল্যস্তর থাকায় তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দামের পার্থক্য খুব সামান্য হওয়ায় ভোক্তারা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যেতে পারছে। তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে দাম বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সিগারেট ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. ফারজানা রহমান মুন বলেন, আমাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তামাকপণ্যের বিদ্যমান কর ব্যবস্থার সংস্কার করা হলে প্রায় ২৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ তরুণসহ প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, 'জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি এবং জটিল কর কাঠামোর সংস্কার করা প্রয়োজন। কারণ তামাকজাত পণ্যে সরকারের যে রাজস্ব আসে, তা তামাকজনিত রোগে স্বাস্থ্য ব্যয়ের মাত্র ৭৫ শতাংশ মেটাতে পারে। কার্যকর করারোপের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব।'

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্দ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের

বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। এই প্রতিরোধ্যযোগ্য মৃত্যু প্রতিরোধে তামাকের ব্যবহার হ্রাস করা প্রয়োজন। এজন্য তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর

করারোপ করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নেওয়া জরুরি।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে তরুণ চিকিৎসকরা সিগারেটের নিম্ন এবং মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৯০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সিগারেটের খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি করেন।

পাশাপাশি বিড়ি ও অন্যান্য তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়। ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি তোলা হয়। জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রেও যথাক্রমে ১০ গ্রামে ৫৫ ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানায় তরুণ চিকিৎসকরা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা'র হেড অব প্রোগ্রামস মো. হাসান শাহরিয়ার, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. রাশেদ রাব্বি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার ও সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আবু জাফরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ১১ জুন ২০২৬

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট।

এদিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে আসছেন। অনেকে এখনো হাসপাতালের মধ্যে আটকে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে সিটি মেডিকেলের নিচতলায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এর ৫ মিনিটের মাথায় ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম বলেন, আমাদের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুনের ঘটনায় রাত ১১টা পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন। হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে এসেছেন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর