img

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে ও কমতে পারে

প্রকাশিত :  ১৫:১৪, ০১ জুন ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:২৭, ০১ জুন ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে ও কমতে পারে
অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জাতীয় বাজেট প্রস্তাব আগামীকাল সোমবার (২ জুন) উপস্থাপন করা হবে। এদিন বিকেল ৩টায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বেতার ও টেলিভিশনের মধ্যেমে এই বাজেট ঘোষণা করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও মূসক (ভ্যাট) বাড়ানো বা কমানোর প্রস্তাব আসতে পারে, যার ফলে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। আবার কিছু পণ্যের দাম কমে আসতে পারে।

দাম কমতে পারে যে সব পণ্যের:

এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার 
প্রস্তাবিত বাজেটে এলএনজি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে। বর্তমানে এলএনজি আমদানির সময় ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর দিতে হয়। আবার গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রির সময় ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। এছাড়া বাইরেও এলএনজি মার্জিনের বিল পরিশোধের সময় গ্যাস বিতরণ সংস্থার কাছ থেকে ৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়।

জ্বালানি তেলেও শুল্ক কমছে 
ক্রুড ফুয়েল অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে এবং অন্যান্য জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ কমানো হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া স্থানীয় শিল্প যেমন টায়ার, টিউব, ব্রেক সু, ব্রেক প্যাড, মার্বেল ও গ্রানাইট উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট।

চামড়া শিল্পে শুল্ক ছাড়
আসছে ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণে বড় উপকরণ হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক উপকরণ। এছাড়া সারা বছরই সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে এমন উপকরণ সাশ্রয়ী মূল্যে রাখা জরুরি। সেই বিবেচনায় চামড়া শিল্পের জন্য কিছু রাসায়নিক উপাদানে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঋণপত্রে কমছে উৎসে কর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উৎসে কর রাজস্ব আদায়ে কিংবা পণ্যের দামের ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রভাব রাখে না। তবুও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এই উৎসে করের অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন বাজেটে উৎসে কর বা সোর্স ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আগামী বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎসে কর কমিয়ে অর্ধেক করা হচ্ছে। বর্তমানে ১ শতাংশ উৎসে কর রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে- ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, ডাল, ভুট্টা, মোটা আটা, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল। সেক্ষেত্রে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে। যা সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর বলা যায়।

ভূমি নিবন্ধনে কর কমছে

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ভূমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কাঠার পরিবর্তে শতাংশে নিবন্ধন ফি ও কর নির্ধারণ করা হবে। ভূমি নিবন্ধনে অগ্রিম কর কিছুটা কমানো হতে পারে। এর ফলে ভূমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনে কর কমবে না বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। গত অর্থবছর ভূমি নিবন্ধন থেকে এনবিআর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার কর পেয়েছে।

শুল্ক কমছে চিনি আমদানিতে

চিনির বাজার দর সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন সময়েই সরকার অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির ওপর বিদ্যমান শুল্ক-কর কমানোর উদ্যোগ নেয়। এবারে প্রস্তাবিত বাজেটে চিনির বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পরিশোধিত চিনির আমদানি শুল্ক প্রতি টন ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সয়াবিন ও কাগজ শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক হ্রাস

দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠায় ও স্থানীয় শিল্প বিকাশে সহায়ক হিসেবে সয়াবিন মিল কিংবা কাগজশিল্পের আমদানিকৃত কাঁচামাল বা উপকরণের ওপর শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব থাকছে প্রস্তাবিত বাজেটে। পাশাপাশি থাকছে নিউট্রালাইজড সয়াবিন তেলের শুল্ক রেয়াতের প্রস্তাব। অন্যদিকে নির্মাণ শিল্পের উপকরণ স্থানীয় শিরিশ কাগজ শিল্পের প্রয়োজনীয় ফেনোলিক রেজিন ও স্যান্ডপেপার জাতীয় কাঁচামালের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব থাকছে বলে জানা গেছে।

কম দামে মিলবে সংবাদপত্রের নিউজপ্রিন্ট

সংবাদপত্রের শিল্পে ব্যবহৃত নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক কমানোর প্রস্তাব ছিল নোয়াবসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের। সেই প্রস্তাবে সারা দিতে ও দেশীয় গণমাধ্যমকে আরও সহায়তা দিতে নিউজপ্রিন্ট আমদানির কাস্টমস শুল্ক ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব বিবেচনা থাকছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

সাশ্রয়ে মূল্যে মিলবে ক্রিকেট ব্যাট

দেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেট ব্যাট এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ব্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির চেষ্টা করছে। এছাড়া ব্যাট কম দামে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চায় সরকার। সে উদ্দেশ্যে ব্যাট তৈরি কাঠ আমদানির ওপর শুল্ক কমতে পারে। ব্যাট তৈরির কাঠ আমদানিতে মোট শুল্কহার রয়েছে ৩৭ শতাংশ। যা কমিয়ে আগামী বাজেটে ২৬ শতাংশ করা হতে পারে।

দেশি সফটওয়্যার উন্নয়নে বাড়তি সুবিধা

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সাররা সফটওয়্যার তৈরি করতে বিদেশি অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ডেভেলপমেন্ট টুলস, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত সফটওয়্যার রপ্তানিও হয়। রপ্তানিকে আরও উৎসাহ দিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ডেভেলপমেন্ট টুলস, সিকিউরিটি সফটওয়্যারে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে।

মাটি ও পাতার তৈরি পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার

মাটির ও পাতার তৈরি তৈজসপত্রের ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব আসছে। বর্তমানে এসব পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। যা বাজেটে প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।

বিদেশি জুস

নন-অ্যালকোহলিক জুস আমদানির ওপর সম্পূরক শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০  শতাংশ করার প্রস্তাবও থাকতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে। ফলে বিদেশি জুস মিলতে পারে তুলনামূলক কম দামে।

পিভিসি পাইপ ও কপার ওয়্যার

পিভিসি পাইপ দেশে উৎপাদন করা হলেও এর উপকরণ আমদানি করতে হয়। যেকোনো অবকাঠামোগত কাজেও পিভিসি পাইপের ব্যবহার রয়েছে। ওই পাইপের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপকরণের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। একই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কপার ওয়্যারেও। এই পণ্যের উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

এছাড়া পরিবহণের টায়ার, টিউব, ব্রেক সু, ব্রেক প্যাড, মার্বেল ও গ্রানাইটের কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর শুল্ক কমার প্রস্তাব থাকছে প্রস্তাবিত বাজেটে। যার ইতিবাচক প্রভাব ভোক্তার পর্যায়ে দামে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে  আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায় ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের ওপর কর, শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। যার প্রভাবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের : 
রড ও স্টিলে ভ্যাট বৃদ্ধি 
নির্মাণ শিল্পের অন্যতম উপাদান হলো রড। রাজস্ব আদায়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে শুল্ক-ভ্যাট ৪০ শতাংশের বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানিতে ভ্যাট ২০–২৩ শতাংশ ও উৎপাদনে ভ্যাট ২০ শতাংশ—বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাতিল হতে পারে বিদ্যমান ফিক্সড আমদানি শুল্ক। শুল্ককর বাড়ানো হলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি টনে রডের দাম বাড়তে পারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে স্টিলের মূল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ আমদানিতে প্রতি টনে ফিক্সড শুল্ক আদায় করা হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে স্টিল থেকে বিলেট ও রড উৎপাদনে প্রতি টনে ফিক্সড ভ্যাট ২ হাজার ২০০ টাকা। সবমিলিয়ে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে সরকার প্রতি টনে পাচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

এসি-ফ্রিজে ভ্যাট বাড়ছে
মাত্র ছয় মাস আগে ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনার প্রস্তুতকারকদের ওপর কর্পোরেট কর দ্বিগুণ করার পর এবার তাদের পণ্যে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। ফলে দেশীয় উৎপাদনকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত রয়েছে। তবে এনবিআর আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে। 

মোটরসাইকেল ও সাইকেলের যন্ত্রাংশ
বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশের অতিরিক্ত সব আমদানি, নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু এতে মোটরসাইকেলের দাম সেই অর্থে কমতে দেখা যায়নি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক-ভ্যাট কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ২০১৮ সালের পর দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনে ১০টির বেশি কারখানা স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাপানের হোন্ডা, ইয়ামাহা ও সুজুকি এবং ভারতের উত্তরা মোটরস, টিভিএস অটো ও হিরোর মতো প্রতিষ্ঠান। দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে রয়েছে রানার অটোমোবাইলস।

সিগারেট
গত জানুয়ারিতে সিগারেটের চারটি স্তরে দাম ও শুল্ক দুটোই বাড়ানো হয়েছিল। আদেশে নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ স্তরে ১০ শলাকা প্রতি সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তবে তামাক শিল্পে ব্যবহৃত সিগারেট পেপারের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে বাজেটে। সেক্ষেত্রে আরেক দফায় দামে প্রভাব পড়তে পারে।

দেশীয় মোবাইল ফোন
মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনে হ্রাসকৃত ভ্যাটহার বাড়ানো হচ্ছে। উৎপাদনের ক্যাটাগরিভেদে ২ থেকে আড়াই শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এর ফলে দেশে তৈরি মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারিতে বাড়তি শুল্ক 
ঢাকাসহ সারা দেশে বিপদজ্জনক বাহনের নাম ব্যাটারিচালিত রিকশা। অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যাটারিচালিত রিকশার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রিকশার ১২০০ ওয়াটের ডিসি মোটরের কাস্টমস শুল্ক ১ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। 

কসমেটিক্স পণ্যে বাড়তি খরচ
নারীদের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত লিপস্টিক, লিপলাইনার, আইলাইনার, ফেসওয়াশ, মেকআপের সরঞ্জাম আমদানির ন্যূনতম মূল্য বিভিন্ন হারে বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি লিপস্টিক আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কায়নের ন্যূনতম মূল্য ২০ ডলার আছে। সেটি বাড়িয়ে ৪০ ডলার করা হতে পারে। একইভাবে অন্য সব কসমেটিক্সের ন্যূনতম মূল্য বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যে ভ্যাট দ্বিগুণ 
একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান টাইম) প্লাস্টিক পণ্যের ওপর ভ্যাট দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চা-কফি কাপ, প্লাস্টিক প্লেট ও বাটির মতো পণ্যের ওপর ভ্যাট বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এর ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব পণ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব এবং প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের ওপর কোনো ভ্যাট আরোপ করা হবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় এমন প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্লেড
সেলুনে শেভিং কাজে ব্যবহৃত ব্লেডের দাম বাড়তে পারে। কারণ স্টেইনলেস স্টিলের স্ট্রিপ থেকে প্রস্তুত ব্লেড এবং কার্বন স্টিলের স্ট্রিপ থেকে প্রস্তুত ব্লেডের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে।

টেবিলওয়্যার
বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালি সামগ্রী, হাইজেনিক ও টয়লেটসামগ্রী উৎপাদনে ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।

দেশে তৈরি সুতা
দেশীয় টেক্সটাইল মিলে উৎপাদিত সুতার ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। প্রতি কেজি কটন সুতা ও মেন মেইড ফাইবারে তৈরি সুতার সুনির্দিষ্ট কর তিন টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ টাকা করা হচ্ছে। এতে দেশীয় সুতায় তৈরি গামছা, লুঙ্গিসহ পোশাকের দাম বাড়তে পারে।

হেলিকপ্টার
নতুন অর্থবছরে হেলিকপ্টার আমদানিতে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হতে পারে। তাতে হেলিকপ্টার আমদানির খরচ বাড়বে। এর আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে শুল্ক ছিল না।

বিদেশি চকলেট
চকলেট আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কায়নের ন্যূনতম মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে বাজেটে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চকলেটের শুল্কায়নের ন্যূনতম মূল্য চার ডলার। এটি বাড়িয়ে ১০ ডলার করা হচ্ছে। এতে আমদানি করা সব ধরনের চকলেটের দাম বাড়তে পারে।

বিদেশি খেলনা
স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি খেলনার ট্যারিফ মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। এতে বিদেশি খেলনার দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্বেল-গ্রানাইট
বাসা-বাড়ির মেঝেতে ব্যবহৃত মার্বেল-গ্রানাইট পাথর আমদানির সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে মার্বেল-গ্রানাইটের দাম বাড়তে পারে।
এছাড়া শুল্ক-কর বৃদ্ধিতে দাম বাড়ার আশঙ্কা আছে- তারকাঁটা, সব ধরনের স্ক্রু, নাট-বোল্ট, ইলেকট্রিক লাইন হার্ডওয়্যার, পোল ফিটিংস, তামাক বীজ ও দরজার তালা ইত্যাদি।
img

আগামীকালও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার জোরালো পূর্বাভাস, বাজেট ও সংস্কারের নতুন সমীকরণ

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ০৯ জুন ২০২৬

৯ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, যা পূর্ববর্তী কার্যদিবসের সাময়িক মূল্য সংশোধন পর্বকে পেছনে ফেলে বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ডিএসই-র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) এদিন ৩৬.৫ পয়েন্ট বা প্রায় ০.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৫১৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, যা আগের দিনের ৫,৪৮৩ পয়েন্ট থেকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক ঘোষিত হতে যাওয়া ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী জাতীয় বাজেটের প্রত্যাশা এবং বিএসইসির সাম্প্রতিক যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে। এই শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে আগামীকাল ১০ জুন ২০২৬ তারিখেও পুঁজিবাজারে এই ইতিবাচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ডিএসইতে ৯ জুনের লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের ১০.৭ বিলিয়ন বা ১,০৭২ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩.৯ বিলিয়ন বা ১,৩৮৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিশাল তারল্য প্রবাহ প্রমাণ করে যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলগুলো পুনরায় বাজারে সক্রিয় হচ্ছে। মোট লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি সিকিউরিটির মধ্যে ২৪১টির দাম বেড়েছে, ৯৪টির দাম কমেছে এবং ৬১টি অপরিবর্তিত ছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে, যেখানে সামগ্রিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই (CASPI) ৩.০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮ জুনের সংশোধন পর্বে যারা মুনাফা তুলে নিয়েছিলেন, তারা এখন প্রাক-বাজেটের ইতিবাচক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে পুনরায় বাজারে প্রবেশ করছেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরদর্শী পদক্ষেপ ও ফ্লোর প্রাইস যুগের অবসান

পুঁজিবাজারে এই নাটকীয় পরিবর্তনের অন্যতম চালিকা শক্তি হলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব। গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খান বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সাথে নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাফিজ আল তারিক এবং তানভীর হাবিব রহমান। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের জন্য একটি বৈপ্লবিক সংস্কার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএএস ৩৪-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে, যা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ও কমপ্লায়েন্স ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে দেবে। একই সঙ্গে আইপিও আবেদন, বন্ড ও সুকুক অনুমোদন সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ‘প্রয়োজন যেখানে নিয়ন্ত্রণ, সম্ভব যেখানে সরলীকরণ’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটানোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিএসইসি গত ৮ জুন বেক্সিমকো লিমিটেড (যার পূর্ববর্তী ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১০.১০ টাকা) এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র (যার পূর্ববর্তী ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩২.৬০ টাকা) ওপর আরোপিত দীর্ঘস্থায়ী ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয়, যা ৯ জুন থেকে কার্যকর হয়। যদিও ৯ জুন লেনদেনের শুরুতেই এই দুই হেভিওয়েট শেয়ারের দাম কমে লোয়ার সার্কিট স্পর্শ করে (বেক্সিমকো ৯৯.১ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক ২৯.৪ টাকা), সামগ্রিক বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং বিনিয়োগকারীরা এই সিদ্ধান্তকে পুঁজিবাজার স্বাভাবিকীকরণ এবং অবাধ দর আবিষ্কারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, এটি ফরেক্স ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক মনোভাব দূর করবে এবং মার্জিন ঋণগ্রহীতাদের নেতিবাচক ইকুইটির ঝুঁকি কমাবে। কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটায় দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারে পুনঃপ্রবেশে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন এবং এর ফলে আগামীকাল ১০ জুন থেকে বাজারে তারল্যের প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাতভিত্তিক লেনদেন ও কারিগরি নির্দেশকের বুলিশ বার্তা

খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ বীমা খাত ৯ জুনের মোট লেনদেনের ২৪.৪ শতাংশ দখল করে শীর্ষে ছিল, যার পরেই ছিল প্রকৌশল খাত (১১.৮ শতাংশ) এবং ওষুধ খাত (৯.৪ শতাংশ)। খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল সেবা খাত (৪.৪ শতাংশ) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (৩.১ শতাংশ)। কারিগরি নির্দেশকের দিকে তাকালে দেখা যায়, পুঁজিবাজারের বেশ কিছু প্রথম সারির কোম্পানি এখন শক্তিশালী বুলিশ জোনে প্রবেশ করেছে। যেমন—লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি (LHB) এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (SAPORTL)-এর ২০ দিনের মুভিং এভারেজ ও ইএমএ ২০ নির্দেশকগুলো অত্যন্ত বুলিশ অবস্থানে রয়েছে। সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ২.৪৫ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৮৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা এর শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ তারল্য নির্দেশ করে।

ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিগুলোর মূল স্তরের নির্দেশকগুলোও ইতিবাচক প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা আগামীকালের বাজারে শেয়ারগুলোর দর ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ওষুধ খাতের জায়ান্ট স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড পূর্ববর্তী আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা কাটিয়ে শক্তিশালী রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ৯ জুন ২১৪.৪ টাকায় লেনদেন সম্পন্ন করে একটি ব্রেকআউটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি ও বিনিয়োগকারীবান্ধব বাজেট রূপরেখা

সামষ্টিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটও পুঁজিবাজারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ ও অতিরিক্ত অর্থ ছাপানোর প্রবণতা থেকে সরে এসে একটি বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধি মডেল অনুসরণ করা হবে। এনবিআরের সঙ্গে যৌথভাবে ‘লিস্টেড কোম্পানি অ্যাডভান্টেজ প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ কর ছাড় ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় আমানতকারীদের সুরক্ষার সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই নীতিগত পদক্ষেপগুলো পুঁজিবাজারে তারল্যের অন্যতম উৎস ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে।

রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের সমন্বয় পুঁজিবাজারকে একটি আঞ্চলিক পাওয়ার হাউসে রূপান্তর করার সরকারের যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রথম ধাপ হিসেবে এই বাজেটটিকে দেখা হচ্ছে। ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। এর প্রত্যক্ষ সুবিধা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদনশীল ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলো পাবে।

আগামীকালের বাজার পূর্বাভাস ও শেষকথা

সামগ্রিক আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, পুঁজিবাজার এখন একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ধারায় ফিরে এসেছে, যেখানে কোনো কৃত্রিম হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিনিয়োগকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংস্কারের ইতিবাচক রূপরেখা, নতুন কর প্রণোদনার প্রত্যাশা এবং ফ্লোর প্রাইসের অবসান বাজারকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আগামীকালের (১০ জুন) লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রাক-বাজেটের বিনিয়োগকারীদের আক্রমণাত্মক ক্রয় মনোভাব এবং ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের পুঞ্জিভবন পুঁজিবাজারকে আরও ঊর্ধ্বমুখী রাখবে।

বিএসইসির নতুন কমিশনের সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তার ফলে আগামীকালের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সবার জন্যই অত্যন্ত লাভজনক ও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।