এশিয়া কাপের মূল পর্বের টিকিট আগেই নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আজ তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার । তবে ‘নিয়মরক্ষার’ ম্যাচটিকে একেবারে গোলবন্যায় রূপ দিলেন বাঘিনীরা।
মিয়ানমারের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ, সেই একাদশই আজও অপরিবর্তিত রাখেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে মাঠে নামে লাল-সবুজের মেয়েরা। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই স্বপ্না রাণীর গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। এর পর যেন একের পর এক গোলের ঢল।
ম্যাচের ৬ মিনিটে শামসুন্নাহারের পা থেকে আসে দ্বিতীয় গোল। থামেননি এই প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড; ১৩ মিনিটে আরও একটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন।
এরপর ১৬ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান মনিকা চাকমা। পরের মিনিটেই ঋতুপর্ণা চাকমা গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। এত দ্রুত গোল হজম করে হতভম্ব তুর্কমেনিস্তান কোচ ১৯ মিনিটেই গোলরক্ষক পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। ২০ মিনিটে তহুরা খাতুনের গোল বাংলাদেশের স্কোরলাইনকে ৬-০ তে পৌঁছে দেয়।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যও এই ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল। জর্ডান, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মিয়ানমারের মতো র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দলগুলোকে হারানোর পর তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ের প্রত্যাশা ছিলই। আর সেটি বাস্তবে রূপ দিতে সময় নেননি বাংলাদেশের মেয়েরা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শেষ বত্রিশের সমীকরণ। এখন পর্যন্ত ১১টি দল নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে, আর বাকি দলগুলো লড়ছে পরবর্তী পর্বের টিকিটের জন্য।
স্বাগতিক মেক্সিকো প্রথম দল হিসেবে শেষ বত্রিশে ওঠে। ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল মেক্সিকো।
দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়যুক্তরাষ্ট্র। ‘ডি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে যায় তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিকরা।
‘ই’ গ্রুপে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে জার্মানি। এর আগে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল জার্মানরা।
‘জে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারানো ম্যাচে জোড়া গোল করেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮ গোলের মালিকও হন তিনি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
‘আই’ গ্রুপ থেকে শেষ বত্রিশে উঠেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে জায়গা নিশ্চিত করে ফরাসিরা। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেও সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছিলেন তিনি।
একই গ্রুপে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল।
‘কে’ গ্রুপ থেকে শেষ বত্রিশে উঠেছে কলম্বিয়া। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এর আগে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল তারা।
‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হওয়া দলটি ভ্যাঙ্কুভারে সহ-স্বাগতিক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করে।
একই গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। কাতারকে ৩-১ গোলে হারানোর পর তাদের নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়।
‘সি’ গ্রুপ থেকে শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় তারা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সাত পয়েন্ট ও ছয় গোল ব্যবধানে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ বত্রিশে ওঠে ব্রাজিল। একই গ্রুপ থেকে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কোও।
অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফ্রিকার দেশটি।
এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করা দলগুলো হলো—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, নরওয়ে, কলম্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।