img

সাগরিকার হ্যাটট্রিক, শ্রীলঙ্কাকে গোলবন্যায় ভাসাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৫:৩৫, ১১ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪০, ১১ জুলাই ২০২৫

সাগরিকার হ্যাটট্রিক, শ্রীলঙ্কাকে গোলবন্যায় ভাসাল বাংলাদেশ
খেলার দ্বিতীয় মিনিটে শুরু হওয়া গোল উৎসব চলল শেষ সময় অবধি। মোসাম্মৎ সাগরিকা উপহার দিলেন হ্যাটট্রিক, মুনকি আক্তার লক্ষ্যভেদ করলেন দুবার। বিশাল জয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ।
এদিন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ২৩ জনের আটজনকেই শুরুর একাদশে রাখেন কোচ পিটার বাটলার। এতে শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক রূপে দেখা যায় স্বাগতিক দলকে। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী। মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুনকি আক্তার। শুরু থেকেই বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কান রক্ষণ কিছুতেই থামাতে পারেনি বাংলাদেশের গতিময় আক্রমণ।

১৫ ও ১৯ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলেও ৩৭ মিনিটে ঠিকই স্কোরশিটে নাম তোলেন সাগরিকা। সিনহা জাহানের ক্রস থেকে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান এই ‘নাম্বার টেন’। প্রথমার্ধে আরও দুটি গোল পেলেও অফসাইডের কারণে সেগুলো বাতিল হয়।

বিরতির পর গোলের তাণ্ডব চালায় বাংলাদেশ। এ সময় লঙ্কানদের জালে ছয়বার গোল উদযাপন করে বাংলাদেশ। ৪৮ মিনিটে মুনকি, ৫০ মিনিটে সিনহা এবং এরপর ৫৩ ও ৫৮ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাগরিকা। ৮৫ মিনিটে স্কোরলাইন ৮-০ করেন রুপা আক্তার। বন্যার কর্নার থেকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের চোখ ফাঁকি দেন রুপা। ৯০ মিনিটের পর সান্ত্বনার গোলের দেখা পায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের রক্ষণের দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগান প্রতিপক্ষ ফুটবলার লাইয়ানশিকা। এর পর পরই শান্তি মার্ডি বাংলাদেশকে উপহার দেন নয় নম্বর গোল।

বাংলাদেশসহ চলতি আসরে অংশ নিচ্ছে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বদলে গেছে টুর্নামেন্টের ফরম্যাট। রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল একে অন্যের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দলই হবে চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালে সর্বশেষ এই প্রতিযোগিতায় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ আসরে এরই মধ্যে চারবার শিরোপা জেতার নজির রয়েছে লাল-সবুজ মেয়েদের।

আগামী ১৩ জুলাই নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ১৫ ও ১৭ জুলাই ভুটানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে তারা। ১৯ জুলাই দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে আফঈদার দল, আর ২১ জুলাই টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে আবারও প্রতিপক্ষ নেপাল।

পাঁচটি দেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেয়। সে জন্য বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান—এই চার দেশ নিয়ে শুরু হয়েছে সাফের এই আসর। টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও এসেছে পরিবর্তন। এখন চার দল রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে একে অন্যের সঙ্গে দুবার করে খেলবে। একটি দল ছয়টি করে ম্যাচ পাবে। আর শীর্ষ পয়েন্টধারী দলের হাতে উঠবে কাঙ্খিত ট্রফি।

১৩ জুলাই নেপালের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার পর ১৫ ও ১৭ জুলাই টানা দুই ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিপক্ষ ভুটান। ১৯ জুলাই আবার লঙ্কানদের সামনে পড়বেন স্বপ্না–সাগরিকারা। আর ২১ জুলাই নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ।

বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ঝুলি বেশ ভারি। সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই প্রতিযোগিতায় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। সেই হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচ আসরে চারবারই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ।

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

প্রকাশিত :  ১২:৩৫, ১৪ মে ২০২৬

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে দীর্ঘদিনের অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার \'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ\'-এ ভূষিত করা হয়েছে।

বুধবার আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি তাকে এই সম্মাননা প্রদান করেন।

২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সাফল্যে আফ্রিদির অসামান্য ভূমিকার কথা এ সম্মাননায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বের অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে এ পদকের মাধ্যমে।

সম্মাননা গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি কেবল তার একার অর্জন নয় বরং পুরো পাকিস্তানি জাতির অর্জন। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং অকুণ্ঠ সমর্থনেরই প্রতিফলন এ পদক। উদার মনের এই ক্রিকেটার এ সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন পাকিস্তানের বীর শহীদদের প্রতি। 

তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ পদক উৎসর্গ করছি’।সবশেষে তিনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন।