img

অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়িতে গুলিবৃষ্টি! হামলার দায় নিল গোল্ডি ব্রার গ্যাং

প্রকাশিত :  ০৮:৩৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৫০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়িতে গুলিবৃষ্টি! হামলার দায় নিল গোল্ডি ব্রার গ্যাং

ভারতের উত্তর প্রদেশের বরেলিতে বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাসভবনের বাইরে এলোপাথাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোল্ডি ব্রার গ্রুপ দায় স্বীকার করেছে। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সাধু প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধাচার্য মহারাজকে অপমান করেছেন দিশা পাটানি। যার জেরে এই হামলা বলে জানানো হয়েছে।

গত ২৯ জুলাই দিশা পাটানির বোন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খুশবু পাটানি প্রেমানন্দ মহারাজ ও অনিরুদ্ধাচার্য মহারাজকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। মহিলাদের সম্পর্কে ওই সন্তদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। যদিও পরে সেই পোস্ট মুছে দেন। আপাতভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও শুক্রবার ভোরে দিশা পাটনির বাবা প্রাক্তন পুলিশকর্তা জগদীশ পাটনির বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাইকে করে এসে কয়েকজন এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে বাড়ি লক্ষ্য করে। যদিও এই হামলায় হতাহতেই ঘটনা ঘটেনি। তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই বাড়িতেই সপরিবারে থাকেন জগদীশ।

হামলার পর কুখ্যাত গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সদস্য রোহিত গোদারা সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে হামলার দায় স্বীকার করেন। ফেসবুকে লেখা হয়, সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ এবং অনিরুদ্ধাচার্যের বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করা হয়েছে তার পালটা দিশার বোন এবং সেনাকর্তা মেজর খুশবু পাটনির উদ্দেশে এই হামলা। পোস্টে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি কেউ ধর্ম বা সাধু-সন্তদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন, তাহলে তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। যদিও রোহিত গোদারা কিছুক্ষণ পরে সোশাল মিডিয়া থেকে এই পোস্ট মুছে দেন। তবে এর স্ক্রিনশট সামনে চলে আসে।

এদিকে এহেন হামলার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এসএসপি অনুরাগ আর্য জানান, এই হামলাকে মোটেই হালকাভাবে দেখা হচ্ছে না। দিশার বাবা তথা প্রাক্তন ডেপুটি এসপির বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের পাকড়াও করতে এসপি সিটি এবং এসপি ক্রাইমের নেতৃত্বে পাঁচটি দল গঠন করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ। শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।

img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’