img

দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

প্রকাশিত :  ১৬:১৫, ১০ নভেম্বর ২০২৫

দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে যাত্রীবাহী একটি গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটের দিকে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের এই ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐহিতাসিক পর্যটন স্থাপনা লাল কেল্লার পাশের এই বিস্ফোরণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্দাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে আশপাশে ছড়িয়ে ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কয়েকটি গাড়ি।

দিল্লি পুলিশ বলেছে, লাল কেল্লার পাশে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা বলেছেন, লাল কেল্লা ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে ধীরে চলা একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। গাড়িটিতে যাত্রী ছিল। বিস্ফোরণে আশপাশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিস্ফোরণে মোট ২২টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণের এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের পরপর মহরাষ্ট্রের মুম্বাই, জয়পুর, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ। দিল্লির উপপ্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা একে মালিক বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছি। সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর লাল কেল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পুরো সময়জুড়েই ওই এলাকা পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে।

একই দিনে রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির বিহার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগের দিন বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটেছে।

মুঘল আমলে নির্মিত লাল কেল্লা পুরোনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা সারা বছরই ওই এলাকায় ঘুরতে আসেন।

• মোদিকে পরিস্থিতি জানালেন অমিত শাহ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই বিস্ফোরণ সম্পর্কে অবহিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া দিল্লির পুলিশ কমিশনার, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধানরাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করছেন।

তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন আধাসামরিক বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, পুলিশ এবং সরকারের উচিত যদ শিগগির সম্ভব তদন্ত শুরু করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ বের করা এবং তা জনগণকে জানানো। দিল্লির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রকার অবহেলা সহ্য করা হবে না।

• ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি মানুষের ছিন্ন-ভিন্ন দেহের অংশ আকাশে উড়ে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখেছেন। তার চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ এত প্রচণ্ড ছিল যে, তার কান কয়েক মিনিট ধরে ব্যথা করছিল। তিনি বলেন, একজনের শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় একটি হাত পড়ে থাকতে দেখেছি। বিস্ফোরণ এত ভয়ঙ্কর ছিল যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের দেয়াল, জানালা ও দরজা কেঁপে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইসরাইল

প্রকাশিত :  ০৭:০৩, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ।

সংস্থাটির হিসাবে, গত এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায়ই নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিন মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইসারাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।

ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের বাকি ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।

গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

ইসলামিক রিলিফের অভিযোগ, ইসরাইল এখনো গাজায় আশ্রয় তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ।

সংস্থাটির মতে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেই চলবে না; মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইসলামিক রিলিফ বলেছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হতাহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও আশ্রয়সংকট অব্যাহত থাকায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর