img

৩ দেশের ৪ সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৭:১৫, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৫, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

৩ দেশের ৪ সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

তিন দেশের চার সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বামপন্থি সহিংসতার আন্তর্জাতিক ঢেউ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে জার্মানির ইন্তেফা ওস্ট, ইতালিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রেভল্যুশনারি ফ্রন্ট, এবং গ্রিসের দুটি সংগঠন আর্মড প্রোলেটারিয়ান জাস্টিস ও রেভল্যুশনারি ক্লাস সেলফ ডিফেন্স যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি দুর্বল করার জন্য নৃশংস হামলা চালাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার ফলে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর নজরদারি, আর্থিক পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর যেসব ব্যক্তি এসব গোষ্ঠীর সহানুভূতিশীল বা সমর্থক বলে বিবেচিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব গোষ্ঠী বিপ্লবী অরাজকতাবাদী বা মার্কসবাদী মতাদর্শ অনুসরণ করে। এর মধ্যে অ্যান্টি-আমেরিকানিজম, অ্যান্টি-ক্যাপিটালিজম এবং অ্যান্টি-খ্রিস্টানিটি রয়েছে। এগুলোদেশের ভেতরে ও বাইরে সহিংস আক্রমণ উসকে দিতে ব্যবহৃত হয়। এই ঘোষণার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য এসব সংগঠন বা তাদের সদস্যদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বেআইনি হবে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্তেফা কোনো পূর্ণাঙ্গ সংগঠন নয়—এর কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সদস্যপদ বা কাঠামো নেই। গ্রিসের পিরেয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ইমেরিটাস অধ্যাপক মেরি বোসিস বলেন, অ্যান্টিফাসিস্ট কর্মীদের সঙ্গে সহিংস উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মিল খোঁজা ‘সম্পূর্ণ ভুল’।

তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, গ্রিসে ইন্তেফা আন্দোলন কখনোই সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করেনি। তারা এমনকি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের সহিংসতার প্রমাণ নেই। ইউরোপের ইন্তেফা কর্মীদের অনলাইন বার্তাগুলোতে সেই ধরনের সহিংস ভাষা দেখা যায় না, যা ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায়শই দেখা যায়।

তিনি বলেন, মার্কিন রাজনীতিতে এই অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা অত্যন্ত দুঃখজনক। মনে হচ্ছে বিশ্বের মানুষকে ‘ভালো ডানপন্থি’ ও ‘খারাপ বামপন্থিতে’ ভাগ করার জন্য এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এটি একমাত্র তখনই অর্থবহ হবে যখন কেউ মাঝারি-বাম বা প্রগতিশীলদের নাম কালিমালিপ্ত করতে চায়, যদিও তারা কখনো সহিংসতার পক্ষে নয়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ২৮ জন নিহত

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৩, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশুও রয়েছে।

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা আক্রান্ত হন। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও বিকৃত ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং একজনের বয়স আট বছর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও অনেক। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের এই অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

প্রিলুকির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণে জানালার কাচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা শরীর দিয়ে আমাদের শিশুকে আগলে রেখেছিলাম। স্বামীর পিঠে আর আমার শরীরেও কাটাছেঁড়া হয়েছে। সন্তানের প্রচণ্ড ভয় হয়েছিল, নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমে চলে যাই। চারপাশের সবকিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন জেলেনস্কি রাশিয়ার ব্যাপক হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সেই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসায় রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। অনেক বাসিন্দা ব্যাগ, মাদুর আর কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে বসে এএফপিকে বলেন, আমরা জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। পুরো কিয়েভ এখন আতঙ্কে। আজ কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। গ্রুপ চ্যাট আর বস সবাই সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিল।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন ছুড়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ঘৃণ্য হামলা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি থাকা ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলায় রাশিয়ার কোনো সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।

সূত্র: এএফপি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর