img

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিলেন সিলেটের পাঁচ শতাধিক মানুষ

প্রকাশিত :  ১১:৩৬, ২২ নভেম্বর ২০২৫

  ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিলেন সিলেটের পাঁচ শতাধিক মানুষ

বিশেষজ্ঞরা সিলেটকে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে সবসময়ই চিহ্নিত করে আসছেন। সক্রিয় ডাউকি ফল্টের কারণে এ অঞ্চলে বড় ধরণের ঝুঁকির আশঙ্কা তাদের।

গত কয়েকবছরে মাঝারি মাত্রার বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হলেও সাম্প্রতিক অতীতে এ অঞ্চলে বড় কোন ভূমিকম্প হয়নি। ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্পে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে ১৮৯৭ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প হয়। ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৮.১। উৎপত্তিস্থল ছিল মেঘালয়ের শিলং অঞ্চল (সেই সময়ের আসাম রাজ্য)। সেই ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, সিলেটেই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সিলেটের বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’-এ দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, সিলেটেই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সিলেটের বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়, ময়মনসিংহ এবং দেশের উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেইবার বিভিন্ন এলাকায় ফাটল দেখা দেয় এবং সুরমা ও ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথে প্রভাব পড়ে।

তিনি জানান, ১৯১৮ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৬। উৎপত্তিস্থল ছিল শ্রীমঙ্গলের বালিছড়া। সেই সময় শ্রীমঙ্গল ও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চ

‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’

আজ থেকে ১২৬ বছর আগের কথা। ১৮৯৭ সাল। জুন মাসের ১২ তারিখ। বছরের প্রায় মাঝামাঝি সেই সময়ে শনিবার বিকেলে শিলং আঘাত হানে একটি ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে সেটির মাত্রা ছিল ৮.১। ভয়াবহ সব ক্ষতির খবর আসতে শুরু করে।

আসামের তৎকালীন প্রধান কমিশনারের মতে, এই ভূমিকম্পে চেরাপুঞ্জি পাহাড় ও সিলেট জেলায় সাড়ে নয় শ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। প্রচুর বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু এরপরও আহসান মঞ্জিলসহ অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

কথিত এই \'গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক\' বা ভারতবর্ষের মহাভূমিকম্প নিয়ে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের মুখপত্র \'দ্য ইংলিশম্যান\' পত্রিকায় একের পর এক বিবরণ আসতে থাকে। প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পটির দালিলিক প্রমাণ রাখার উদ্দেশ্যেই ওই পত্রিকার বিবরণী পরবর্তী সময়ে স্থান পেয়েছে পুস্তকে। \'দ্য আর্থকোয়েক ইন বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম\' শীর্ষক বইয়ে ইংলিশম্যানের প্রতিবেদনগুলো পুনরায় মুদ্রিত হয়। সেসব বিন্যস্ত হয়েছে কালানুক্রমিকভাবে।

১৮৯৭ সালের সেই বিধ্বংসী ভূকম্পনের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের কী রূপ সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তার একটি ধারণা পাওয়া যায় এই বই থেকে। বইয়ে সূত্র হিসেবে ইংলিশম্যান পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে অনেক প্রাসঙ্গিক তথ্যও উদ্ধৃত হয়েছে, পাশাপাশি অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরও জবানবন্দি উঠে এসেছে।

ভূমিকম্পের মাত্র দুদিন পর ইংলিশম্যান পত্রিকায় জুন ১৪-তে লেখা হয়েছে, \'শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর ভারত জুড়ে যে মহাভুমিকম্পটি হয়েছে, তা নিয়ে এখনই নির্ভুলভাবে কিছু বলা অসম্ভব। তবে বর্তমান প্রজন্ম এই ধরনের কোনো ঘটনা তাদের জীবদ্দশায় দেখেনি আর যেসব দেখেছে, এর তীব্রতা যে সব কটিকেই ছাড়িয়ে গেছে, তাতে সন্দেহ সামান্যই। আমাদের টেলিগ্রাম থেকে এটি জানা গেছে যে ভূকম্পনের ঢেউটি বাংলা, মণিপুর, আসাম এবং বম্বেতে কম-বেশি সব জায়গাতেই অনুভুত হয়েছিল। ভূমিকম্পের ব্যাপ্তি থেকে ধারণা করা যায় যে এটা একদিকে বিহার অন্যদিকে মধ্য প্রদেশকে স্পর্শ করেছিল। একই সঙ্গে আরেক দিকে দার্জিলিং এবং শিমলার মতো দূরবর্তী জায়গায়ও এর কম্পন অনুভূত হয়েছে।\'

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ভুমিকম্পের তরঙ্গের শক্তি কলকাতার মতো দার্জিলিংয়েও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ত্রিপুরার কসবা থেকে টেলিগ্রাফযোগে একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আসাম-বাংলা রেলপথে ১০০ মাইলেরও বেশি সীমানা জুড়ে কম্পন মারাত্মকভাবে অনুভুত হয়েছিল এবং শমশেরনগরে একটি ট্রেন উল্টেও গিয়েছিল। খবর আসে, মিশ্র যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে মন্টোল্লায় আটকে যাওয়ার। এই দুটি উদাহরণ থেকে অনুমান করা যায় এই ভূমিকম্পের তীব্রতা: একটি ভূমিকম্প, যা সেতু ধ্বংস করেছে এবং ট্রেন লাইনচ্যুত করে দিয়েছে, এবং এটা মানুষের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

সিলেটের ক্ষয়ক্ষতি

সিলেটের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রবীণদের স্মৃতিতেও এই ভূমিকম্প ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। তারা অন্য ভূমিকম্পের সাথে এটির তুলনা করে বলেছিলেন যে ওসব এর কাছে কিছুই না। স্মৃতিতে তাদের কাছে ভূমিকম্পের আগের সময়টা অন্য রকম ঠেকেছে। কিন্তু তারা ভূমিকম্পের আগাম বার্তা অনুমান করতে পারেননি। আকাশে কালো মেঘ ভরে ছির, এরপর শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। এর আগের প্রায় প্রতিটি ভূমিকম্পেই তীব্র গর্জন শোনা যেত। কিন্তু সেবার এমন কিছুই শোনা গেল না ভূমিকম্প আঘাত হানার আগে।

এমন আচমকা শুরু হলো যে, মানুষ যে দৌড়ে ঘর থেকে পালাবে, সেই সুযোগটিও পাওয়া যায়নি। প্রকাণ্ড সব গাছ মাটির কাছে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল। তিন মিনিটের মতো স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পটির ঢেউ উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে ধাবিত হয়েছিল।

মার্টিঙ্গা ফ্যাক্টরির বিপরীতে ধলাই নদীর কূল ছাপিয়ে ঢেউ ডাঙায় আছড়ে পড়ে। মুনশি বাজারে সেদিন হাট বসেছিল। মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্প আঘাত হানা এলাকাবাসী প্রাণভয়ে পালাবার চেষ্টা করলেও নদীর ফাটলের মুখোমুখি হয়। শুরুতে ইংলিশম্যান পত্রিকায় সন্দেহ করা হয়েছিল, এলাকাবাসীর এসব বয়ান অতিরঞ্জিত। কিন্তু পরে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ আসতে শুরু করলে ক্ষক্ষতির পরিমাণ সঠিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়।

আসাম-বাংলার রেলপথ করিমগঞ্জের কাছাকাছি লাইনচ্যুত হয়। তেলাগাঁওয়ের কাছে অবস্থান করা এই ভারী ট্রেনের ইঞ্জিন আর কয়েকটি ট্রাক ছাড়া বাদবাকি অংশ নিচের ধানখেতে গিয়ে পড়ে।

ভূমিকম্পে ওেলের বাঁধগুলো পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কোথাও কোথাও নিচে চিড় ধরে গেছে। সব দিক থেকে তখন কেবল দুর্যোগের সংবাদ আসতে শুরু করে। সিলেটের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জমিদার ছিলেন আলী ওমজিদ খান, তার বাড়ি ও তদসংলগ্ন এলাকা থেকেও ভূমিকম্পের নির্ভরযোগ্য বয়ান পাওয়া যায়:

মহররমের সময় (১১ মহররম ১৩১৫ হিজরি) হওয়ায় জনসমাগম ছিল। গুঞ্জন আছে যে জমিদারবাড়িটি পাকা হওয়ার পরও, সেখানে ১০ জন আহত হয়েছেন আর তিনজনের অবস্থা মৃত্যু-সংকটাপন্ন। ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, প্রথমে গুজব রটেছিল যে ওমজিদ খান নিজেও এই ধ্বংসাবশেষের নিচেই চাপা পড়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জীবিত ফেরেন। এবং এলাকাবাসীর প্রিয় হওয়ায় তার জীবিত থাকার সংবাদে স্বস্তি নেমে আসে। এই ভূমিকম্পে আসাম-বাংলার যোগাযোগেও ছেদ ঘটেছিল সাময়িক সময়ের জন্য।

জুলাই ৩, ১৮৯৭-এর ইংলিশম্যান পত্রিকা থেকেও জানা যায় সিলেটের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ। পত্রিকারটির নিজস্ব প্রতিবেদক লিখেছেন, \'ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও অভূতপূর্ব প্রকৃতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে সবকিছু জানানো হয়েছে, তাই আমি মোটামুটি সবচেয়ে খারাপ ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরার চেষ্টা করছি। চা শিল্পে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি হবে– এটা বাজে কথা। আশঙ্কা হলো, এক পাউন্ড চা-ও নষ্ট হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চায়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যদিও এর তেমন উদাহরণ নেই। তবে একটি সম্পূর্ণ চা কারখানার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ভালো চা তৈরির অন্যান্য যন্ত্রপাতি কমবেশি ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে চা কারখানা ও প্রক্রিয়ায় চা শিল্পের জন্য যথেষ্ট অসুবিধার তৈরি করবে।

সিলেটের ফসলের ৫০ শতাংশের নষ্ট হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাকা বাংলোগুলোর। সেখানকার বারান্দার স্তম্ভগুলো ভূমিকম্পের ধকল সহ্য করতে পারেনি। আর ভূমিকম্প শেষে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগিয়েছে। তবে যে বাংলোগুলোতে লোহার পিলার ছিল, সেগুলো আশ্চর্যজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছে এবং খুব বেশি ক্ষতির মুখোমুখিও হয়নি। কিন্তু মনুমুখ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের মতো অনেক জায়গা পলিমাটির ওপর গড়ে ওঠা, ফলে মনুমুখে ভ\'পৃষ্ঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এখানে চা মিল পুরো মাটির নিচে তলিয়ে গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জে এখন পর্যন্ত স্টিমার অফিসের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বড় লোহার গোডাউনের মেঝে নিচে দেবে গেছে এবং পুরো গোডাউনটিই যেন উপড়ে পড়েছে। করিমগঞ্জ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে মাটিতে যথেষ্ট চিড় ধরেছে। সিলেট শহর এই মুহূর্তে যেন একটা নদীর মতো। জেলা প্রশাসক, জজ, পুলিশ সুপাররা নৌকায় বসবাস করছেন। খাজাঞ্চির খাজানাখানাও মাটিতে তলিয়ে গেছে। মাটি থেকে মূল্যবান পুরোনো রেকর্ড পুনরুদ্ধারের জন্য কুলিদের নিয়োগ করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে সব ছত্রখান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ২৭ মে ২০২৬

সিলেটে কদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানের ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও। ফলে ঢল নেমে বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বন্যা হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায় ৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার। শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সেখানের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিলেট জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বেড়েই চলতেছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক শূন্য মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার। শেরপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার। লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারি বৃষ্টি একসঙ্গে মিলিত হলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের জন্য পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে, তাছাড়া সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে যদি ‍উজানে ঢল আর বৃষ্টিপাত চলমান থাকে তাহলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও এটি হবে স্বল্পমেয়াদি, পানি নেমে যাবে খুব দ্রুতই।

সিলেটের খবর এর আরও খবর