img

সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে ছিলেন সোহেল তাজ

প্রকাশিত :  ০৫:১০, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে ছিলেন সোহেল তাজ
পিলখানায় সংঘটিত বর্বর হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রায় ১১ মাসের তদন্ত শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

তদন্ত কমিশনের ৩৬০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার তাপসের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের একাধিক বৈঠক হয়। একটি বৈঠকে অফিসারদের জিম্মি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, পরে তা পরিবর্তন করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিডিআর ইউনিফর্ম কেন বানিয়েছিলেন সোহেল তাজ, উঠে এলো জবানবন্দিতেবিডিআর ইউনিফর্ম কেন বানিয়েছিলেন সোহেল তাজ, উঠে এলো জবানবন্দিতে

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জনের একটি দল বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাপসকে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী। এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন এবং তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্তের অনুমোদন নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন কমান্ডো এনএসজিসহ ২৪ ভারতীয়পিলখানা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন কমান্ডো এনএসজিসহ ২৪ ভারতীয়

সাধারণ বিডিআর সদস্যদের ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহ সৃষ্টি করার মাধ্যমে মূল পরিকল্পনা দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিডিআরের কিছু সদস্যের সঙ্গে শেখ তাপস, শেখ সেলিমসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বাসা, অফিস, মসজিদেও এ রকম কিছু বৈঠক হয় বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে বেরিয়ে এসেছে। বাস্তবায়ন ও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে বিপুল অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল।

ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা তাপসের অফিসেভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা তাপসের অফিসে

তদন্তে উঠে আসে, সংসদ সদস্য গোলাম রেজা ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানা এলাকায় আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখেছেন।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

এখনও মেলেনি ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে এখনো বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আগের বছরগুলোতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো ছাড়পত্র মেলেনি। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্ট মাসে ইলিশ মাছ আমদানির জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতের জন্য চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতির বিষয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশ মাছের উৎপাদন পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। 

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন। ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ অবস্থায় ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচ করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানিয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। 

এরপর তা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠানো হবে। ফলে হাতে যে সময় আছে, তাতে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানকার মানুষ চড়া দামে হলেও ইলিশ কেনার জন্য মুখিয়ে থাকেন। পদ্মার ইলিশ বিক্রিতেও মাছ ব্যবসায়ীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়। কিন্তু ২০১২ সালে ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ মাছ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই ভারতে রপ্তানি হয়েছে। পরের বছর এক হাজার ৮৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সবগুলোই রপ্তানি হয়েছে। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, আর রপ্তানি 

হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর