img

জগন্নাথ হলে গোলাম আজম, নিজামীর ব্যঙ্গাত্মক ছবি মুছে দিল প্রশাসন

প্রকাশিত :  ০৯:৪৮, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫৪, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

জগন্নাথ হলে গোলাম আজম, নিজামীর ব্যঙ্গাত্মক ছবি মুছে দিল প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পদদলিত করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আজম ও যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি আঁকা হয়েছিল। তবে হলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ছবিগুলো মুছে দিয়েছে হল প্রশাসন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ হল সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত 'চিত্র প্রদর্শনী ও তুলির আঁচড়ে দ্রোহ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে হলের সড়কের মেঝেতে এই ঘৃণাসূচক প্রতিকৃতিগুলো এঁকেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে ছবিগুলো মুছে দিয়েছে হল প্রশাসন। তবে হল প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে হলের রবীন্দ্রভবন ও অক্টোবর স্মৃতি ভবন সংলগ্ন সড়ক এ ছবিগুলো আঁকা হয়, যা মুছে ফেলা হয়েছে রোববার সকাল ১০টার দিকে।

হল সংসদের ভিপি পল্লব বর্মণ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জগন্নাথ হল। ১৪ ডিসেম্বর এই হলের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা সেই ১৪ ডিসেম্বর স্মরণে ‘তুলির আঁচড়ে দ্রোহ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করি। ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তাদের মধ্যে থাকা দ্রোহ দিয়ে এই ছবিগুলো এঁকেছিল।

তিনি আরও বলেন, হল প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ছবিগুলো মুছে দিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এই কাজের জন্য হল প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে বলা হবে।

জানতে চাইলে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছবিগুলো এঁকেছিল। তারা অনুমতি নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো প্রদর্শন করবে। তবে এ ছবিগুলো আঁকার ফলে উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। হয়তো শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে বলে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে নির্দেশ দেয় এগুলো মুছে দেওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলে কে বা কারা অভিযোগ করেছে, তা আমি জানি না। আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাই আমি মুছে ফেলেছি।

জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা শুধু জিজ্ঞেস করেছি, এগুলো কী। আমরা কোনো নির্দেশ দেইনি।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫

প্রকাশিত :  ০৫:৫৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।