img

‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দেখতে দর্শকদের চাপ, নেটফ্লিক্সের সার্ভার ক্র্যাশ

প্রকাশিত :  ০৮:০১, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দেখতে দর্শকদের চাপ, নেটফ্লিক্সের সার্ভার ক্র্যাশ

বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে যে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুমের অন্তিম পর্বটি ঘিরে, তার চাপে সাময়িকভাবে ভেঙে পড়েছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্সের সার্ভার। 

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকালে বহুল প্রতীক্ষিত এই গ্র্যান্ড ফিনালে মুক্তি পাওয়ার পরপরই কয়েক লাখ ব্যবহারকারী একসাথে প্ল্যাটফর্মটিতে লগ-ইন করার চেষ্টা করেন। এর ফলে বিপুল ট্রাফিক সামলাতে না পেরে নেটফ্লিক্সের সার্ভারে কারিগরি বিভ্রাট দেখা দেয় এবং অনেক ব্যবহারকারী স্ট্রিমিং সেবাটি ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হন। চলতি মৌসুমে এটি নেটফ্লিক্সের জন্য দ্বিতীয়বার বড় ধরণের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর শেষ পর্বটি রিলিজ হওয়ার সাথে সাথেই বিভ্রাট শুরু হয় এবং প্রায় এক মিনিটের মতো নেটফ্লিক্সের সাইটটি পুরোপুরি অচল ছিল। যারা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন, তাদের স্ক্রিনে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় শো ‘নেইল্ড ইট!’-এর একটি ছবি ভেসে ওঠে এবং সেখানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি দুঃখপ্রকাশমূলক বার্তা দেওয়া হয়।

বার্তার লেখা ছিল যে, গ্রাহকের অনুরোধটি সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে এবং তারা সাময়িক এই অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। যদিও কয়েকবার রিফ্রেশ করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে, তবুও দর্শকদের বিপুল আকাঙ্ক্ষার মুখে নেটফ্লিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের এমন সার্ভার ক্র্যাশ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগেও ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ নিয়ে নেটফ্লিক্স বেশ কয়েকবার প্রযুক্তিগত বিড়ম্বনায় পড়েছে। গত ২৬ নভেম্বর এই মৌসুমের প্রথম চারটি পর্ব মুক্তির সময় প্ল্যাটফর্মটি প্রায় পাঁচ মিনিট অচল ছিল। এ ছাড়া ২০২২ সালে চতুর্থ মৌসুমের শেষ পর্ব এবং গত বছর মাইক টাইসন ও জেক পলের বক্সিং ম্যাচ লাইভস্ট্রিমিংয়ের সময়ও একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল প্ল্যাটফর্মটি।

তবে বড়দিনে মুক্তি পাওয়া সিজন ফাইভের দ্বিতীয় ধাপের পর্বগুলো নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ ভিউয়ারশিপের রেকর্ড গড়েছিল। গত ২২ থেকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সিরিজটি ৩ কোটি ৪৫ লাখ বার দেখা হয়েছে, যা এর জনপ্রিয়তা ও আবেদনকে আবারও প্রমাণ করেছে।

এদিকে সিরিজের দুই স্রষ্টা ম্যাট ও রস ডাফার জানিয়েছেন যে, এই গ্র্যান্ড ফিনালে কেবল অনলাইনেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহেও একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহে এটি দেখার জন্য ইতিমধ্যে ১১ লাখ দর্শক নিবন্ধন করেছেন এবং ৬২০টি প্রেক্ষাগৃহের ৩ হাজার ৫০০টি শোর সবগুলোই এখন হাউসফুল।

ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় রস ডাফার লেখেন যে, গত ১০ বছরের এই লম্বা ও রোমাঞ্চকর যাত্রা একসঙ্গে শেষ করার জন্য প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর চেয়ে সুন্দর উপায় আর হতে পারে না। এই সফল সমাপ্তির মাধ্যমে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষার সিরিজ হিসেবে নিজের শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল।

img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’