সংকট নেই প্রাথমিকে

img

বছরের প্রথম দিনে সব বই পায়নি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত :  ০৫:৩৭, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

বছরের প্রথম দিনে সব বই পায়নি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পায়নি মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিকল্পনা ছিল প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত এক থেকে দুটি করে হলেও বই তুলে দেওয়া। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির একটি বইও যায়নি অনেক বিদ্যালয়ে, এমন বিদ্যালয় রাজধানীতেও আছে। 

তবে এবার কোনো সংকট নেই প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে। আরও দুই সপ্তাহ আগেই প্রাথমিকের শতভাগ পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে সব পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে। 

যদিও প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত এক থেকে দুটি করে হলেও বই তুলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর একটি বইও যায়নি অনেক বিদ্যালয়ে।

এনসিটিবির তথ্য বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি বিনামূল্যের বই ছাপিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়েছে। বিতরণের তারিখের অনেক আগেই সব বই উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।

এনসিটিবির সূত্রমতে, এবার মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম সরবরাহ হয়েছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বই। ইবতেদায়ি স্তর ব্যতীত সপ্তম শ্রেণীতে ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও অষ্টম শ্রেণীতে প্রায় ৪৫ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কিছু বই পেলেও অনেক বিদ্যালয়ে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর কোনো বই পৌঁছায়নি। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দাবি, বছরের শুরুতে মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে না দেয়া গেলেও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে দেয়া হবে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না। গত দুই বছরে শিক্ষার্থীদের সব বই হাতে পেতে প্রায় বছরের অর্ধেক পার হয়ে গিয়েছিল। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে (নভেম্বর) ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে আবার দরপত্র আহ্বান করে এখন বই ছাপানো হচ্ছে। এছাড়া কর্মকর্তাদের দাবি, ছাপার কাজে মন্ত্রণালয় ও ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদন পেতেও দেরি হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ সময় তিনি জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই পেয়েছে। এ বছর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চলমান রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর পাঠ্যপুস্তকের মান অতীতের তুলনায় মানসম্মত। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এবার অভিভাবক নির্দেশিকা ছাপার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য বই তৈরি করছি অভিভাবক নির্দেশিকা এবং সেটা শিগগির আপনাদের হাতে পৌঁছাবে। শিশুরা কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তার জন্য আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে খুব সহজ ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বর্ণনা করেছি। আমরা মনে করি শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তিনটি—আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর অভিভাবক। এ তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সফল হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে চাই, সত্যিকার অর্থে তাদের মানুষ করে তুলতে চাই, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বটাই সবচেয়ে বেশি। সেটা ঠিকমতো না হলে পরবর্তী সময়ে কিছু হয় না।’


img

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কড়াকড়ি’

প্রকাশিত :  ১০:১১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের কঠোর শিক্ষার্থী ভিসা নীতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগে। হোম অফিসের নিয়ম মেনে স্পনসর লাইসেন্স ধরে রাখতে দেশটির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ‘কনফারমেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও সিলেটসহ নির্দিষ্ট অঞ্চল, কোর্স ও ডিগ্রির আবেদনেও সীমাবদ্ধতা এনেছে।

যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন দপ্তর (ইউকেভিআই) সংশোধিত ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ কাঠামো অনুযায়ী, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে তাদের স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ।

হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ২২ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে বাতিল হওয়া মোট শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আবেদনকারীদের।

এই পরিস্থিতিতে স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়া এড়াতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ, সিএএস ইস্যু বা নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি সীমিত করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

দেশজুড়ে আবেদন স্থগিত করেছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি, কিংস্টন ইউনিভার্সিটি, কিল ইউনিভার্সিটি, রেভেনসবর্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডন, ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব রোচ্যাম্পটন বাংলাদেশ থেকে আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে।

এ তালিকায় রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস ট্রিনিটি সেন্ট ডেভিড এবং শিক্ষা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘অনক্যাম্পাস সিইজি’। কিউএ হায়ার এডুকেশনের মাধ্যমে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব আলস্টার ও নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির কিছু শাখা ক্যাম্পাসও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সিএএস ইস্যু বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি কড়াকড়ি

দেশব্যাপী বিধিনিষেধের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কড়াকড়িতে সিলেটের শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কারণে এ অঞ্চলের আবেদনকারীদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কমপ্লায়েন্স টিমের বাড়তি নজর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফিন্যান্সিয়াল ডকুমেন্টের অসঙ্গতি, ভিসা বা ক্রেডিবিলিটি ইন্টারভিউতে ব্যর্থতা এবং যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর আশ্রয়ের আবেদনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঝুঁকি কমাতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শদাতাদের ভাষ্য।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস, অ্যাবারিস্টউইথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি, রিজেন্ট কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটন সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে। অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব হালের কিছু শাখা ক্যাম্পাসেও একই ধরনের নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি ঢাকা ও সিলেটের শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে। কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পুরো বাংলাদেশের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে সীমাবদ্ধতা দিলেও সিলেটের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতি নিয়েছে।

অপরদিকে, ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ার ঢাকা বিভাগ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার শিক্ষার্থীদের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোর্স ও ডিগ্রিতেও বিধিনিষেধ

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কোর্স ও ডিগ্রিতে আবেদন সীমিত করেছে। বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি ও বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং এমরেস (মাস্টার্স বাই রিসার্চ) কোর্সে আবেদন স্থগিত করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ল ও ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার সিলেটের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিজনেস ও ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ভর্তি বন্ধ রেখেছে। ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটনও সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও নির্দিষ্ট বিজনেস কোর্সে আবেদন স্থগিত করেছে।

এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্রেটার ম্যানচেস্টার এমরেস ও পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তি বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শদাতাদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের পেছনে একাডেমিক বৈরিতা নয়; বরং ভিসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি, আর্থিক নথির অসঙ্গতি, ইন্টারভিউতে ব্যর্থতা এবং যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর আশ্রয়ের আবেদন বৃদ্ধির মতো বিষয় কাজ করছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতি ও কোর্সের প্রাপ্যতা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই কোনও নন-রিফান্ডেবল টিউশন ফি জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ ও সিএএস ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা পরামর্শদাতারা।