img

বিয়ে করলেন অনন্যা গুহ ?

প্রকাশিত :  ১০:২০, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ে করলেন অনন্যা গুহ ?

গোপনে বিয়ে সারলেন অনন্যা গুহ? সামাজিক মাধ্যমে বুধবার হঠাৎই ভাইরাল হয় তাঁর গায়ে হলুদের ছবি। ব্যাপারটা কী?

হ্যাঁ, এই কথা ঠিক যে অনন্যা গুহ বিয়ে করছেন। তবে সেটা সুকান্ত কুণ্ডুকে নয়।

ঘাবড়ে গেলেন? ভাবছেন এতদূর এগিয়ে, বাগদান, আইনি বিয়ের পর সম্পর্ক ভেঙে অন্য কাউকে বিয়ে করছেন কিনা অভিনেত্রী? তাহলে জানাই, এই ভাবনা একেবারেই ভুল। অনন্যা গুহ বিয়ে করছেন ঠিকই। কিন্তু সেটা পর্দায়।

অনন্যা গুহকে দর্শকরা বর্তমানে সান বাংলা চ্যানেলের জনপ্রিয় ধারাবাহিক \'সোহাগে আদরে\' ধারাবাহিকে দেখতে পাচ্ছেন।

সেখানে তিনি \'ডিনা\'র চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই চরিত্রের সঙ্গে সূর্য নামক চরিত্রটির বিয়ে হচ্ছে। সেখানেই দেখা যাচ্ছে অনন্যা অর্থাৎ ডিনার গায়ে হলুদ, মেহেন্দি, সঙ্গীত, ইত্যাদির মতো অনুষ্ঠান হচ্ছে। অভিনেত্রী নিজেই এদিন তাঁর পর্দার গায়ে হলুদের মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়া করে নিয়েছেন।

বাস্তবে এখনও গাঁটছড়া বাঁধেননি অনন্যা। কিন্তু জানিয়েছেন বিয়ের ডেট।

সামাজিক মাধ্যমে সুকান্ত কুণ্ডু এবং অনন্যা গুহ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানেই ৬ জানুয়ারি তাঁদের বলতে শোনা যায় যে আর মাত্র ২ মাস বাকি তাঁদের বিয়ে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে ২০২৬ সালের ৬ মার্চ সামাজিক ভাবে বিয়ে করবেন তারা।

ইতিমধ্যেই বিয়ের প্রস্তুতি দুই পক্ষেই অনেকটা সম্পন্ন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। 

অনন্যা গুহ এবং সুকান্ত কুণ্ডু ফেসবুকে দারুণ সক্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনেত্রী ভ্লগার। অন্যদিকে সুকান্ত আইটি কর্মী হওয়ার পাশাপাশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই পরিবার, বন্ধু এবং আত্মীয়দের উপস্থিতিতে বাগদান এবং রেজিস্ট্রি সারেন দু\'জনে। রেজিস্ট্রির সময় লাল বেনারসিতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। 

অন্যদিকে বাগদানের সময় জমকালো গাউনে নজর কাড়েন। রেজিস্ট্রি এবং বাগদানের সময় তাঁদের ভরপুর ফটো সেশন করেন। সুকান্ত হলেন অনন্যার বড়বোন তথা অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহর বন্ধু। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অনন্যা এবং সুকান্তর। একসঙ্গে অনেকটা সময়, অনেকগুলো বসন্ত কাটানোর পর অবশেষে এই বছর চার হাত এক হতে চলেছে তাঁদের। 

img

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে এবার তোপের মুখে কঙ্গনা

প্রকাশিত :  ০৯:৩৩, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভারতের জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম অপমানজনক, কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। তার এ মন্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ ভারতের একাধিক প্রধান শহরে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা, স্লোগান ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আন্দোলনকারীদের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও মেমে একদিকে যেমন সৃজনশীলতা ও রসবোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে অশালীন ও কুরুচিকর ভাষার ব্যবহারও নজরে এসেছে।

যন্তর মন্তর ও দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোকে ‘বমি আসার মতো’ আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন, আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কদর্যতা বা রূপহীনতা আমি আর কখনও দেখিনি। জেন-জি বিক্ষোভকারীদের এসব রিলস দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে ও যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে... জীবনের কোনো ফ্রেমে এত কর্কশ ও বিশ্রী দৃশ্য আমি একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি।

আন্দোলনকারীদের পরিবার ও প্রতিপালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিজেপি সংসদ সদস্য কুরুচিকর সুরে মন্তব্য করেন, এওও, এদের জন্ম দিচ্ছে কে, আর বড়ই বা করছে কে?

বিক্ষোভকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা কটাক্ষ করে বলেন, ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে পরিবেষ্টিত। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলছো এবং দেখতে ও আচরণেও ঠিক তাদের মতোই মনে হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো বিরোধ বা নতুনত্ব নেই, তোমরা কেবল পুরো বিশ্বকে তোমাদের নোংরামো, আবর্জনা ও কদর্যতার মুখে ফেলছো। এসব রিলস দেখে আমার মানসিক আঘাত লেগেছে। আমার এখন কিছুটা সুস্থতা ও ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োজন।

তবে কঙ্গনার ক্ষোভের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের দিকে। বিক্ষোভের অংশ হওয়া ‘হিন্দু নারীদের’ লক্ষ্য করে তিনি বলেন, তারা তথাকথিত ‘পশ্চিমা ভাবধারায় বিশ্বাসী ভারতীয় নারী’, যারা এতই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও কদর্য’ যে তারা কখনো ভালো গৃহিণীও হতে পারবে না।

এই বলিউড তারকা আরও লেখেন, তারা মাদক ও মদ সেবন এবং মা-বাবার টাকায় নির্লজ্জভাবে জীবনযাপন করার স্বাধীনতাকে গর্বের সঙ্গে জাহির করে।

একপর্যায়ে পুরো তরুণ প্রজন্মকে কড়া আক্রমণ করে কঙ্গনা তাদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘ড্রেনের প্রজন্ম’ বলে আখ্যা দেন। তিনি লেখেন, আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের কোনো অবদান নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কদর্য ও কুরুচিকর যে সাধারণ গৃহিণী হওয়ার যোগ্যতাও এদের নেই।

কঙ্গনা রানাওয়াতের এই তীর্যক ও আপত্তিকর মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের যেভাবে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে, তা নিয়ে কঙ্গনার কোনো অনুশোচনা আছে কি না।

জাগতাপ বলেন, এই আন্দোলনের সময় আমাদের মেয়ে ও সন্তানদের যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে ও তাদের সঙ্গে যে কুরুচিকর আচরণ করা হয়েছে- নিজে একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কঙ্গনার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করলো না? তার এই মানসিকতা আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছে।

অন্যদিকে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 

তিনি বলেন, কঙ্গনা রানাওয়াত যদি সত্যি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো, তিনি কি নিট- এর পুরো নাম জানে? নিশ্চিতভাবেই জানেন না। পুরো জেন-জি প্রজন্মের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখা উচিত, তার দলের সংসদ সদস্যরা দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য কী ধরনের কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছেন।

আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং রাজপথে নেমে আন্দোলন করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাকে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।