মার্কিন ভিসা বন্ড

img

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার

প্রকাশিত :  ০৬:০৮, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৯, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার

মার্কিন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে।

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি সফররত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।

জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জেমিন গ্রিয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খলিলুর রহমান। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ সময় ইউএসটিআরকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিসহ ব্যবসা বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দেশটিতে ভ্রমণ এর মধ্যেই বেড়েছে। বাণিজ্যঘাটতি দূর করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ব্যবসা বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের বিষয়টি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তাই বাংলাদেশকে মার্কিন ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত করার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে জেমিন গ্রিয়ারকে তাঁর অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান।

খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের সফরে গতকাল সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে জেমিসন গ্রিয়ার ছাড়াও সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।

শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর অগ্রগতি তাঁকে (জেমিসন গ্রিয়ার) অবহিত করেন খলিলুর রহমান।

আলোচনায় খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) কমানোর প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দেন। জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

একই সঙ্গে জেমিসন গ্রিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়—এমন পোশাকপণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

উভয় পক্ষ দ্রুত কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির ব্যাপারে একমত হয়, যাতে পারস্পরিক শুল্কচুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করা যায়।

এ ছাড়া খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধও করেন।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্যসংকট কমাতে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রবিবার ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ হাজার কোটি টাকা চাওয়ার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে এই অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে। চলতি মাসে প্রথম ১০ দিনে আমানতকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামাল দিতেই মূলত এই বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর প্রয়োজনে নগদ সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

একই সঙ্গে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরো সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

পরবর্তী দুই দিনে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়।

এরপর বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।