img

আইসিসি জানিয়েছে বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ থাকলে দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে: আসিফ নজরুল

প্রকাশিত :  ১২:৪৪, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০২, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আইসিসি জানিয়েছে বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ থাকলে দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বিসিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য তিনটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিস্ময়করভাবে, ওই ঝুঁকিগুলোর একটির সঙ্গে বিশ্বকাপ দলে মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির এমন যুক্তি উদ্ভট ও অযৌক্তিক। দলের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গড়ার মতো প্রত্যাশা অবাস্তব। 

তিনি বলেন, ‘আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, দলে মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকদের দলের জার্সি পরে ঘোরাঘুরি। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসা। নির্বাচন যতো এগিয়ে আসবে ততো দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়বে।’   

আইসিসির দেখানো তিনটি কারণকেই অবাস্তব আখ্যা দিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা দলের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গড়ব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না। আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।’

ভারতে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইসিসি ভারতের কথায় ওঠবস না করলে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করবে, ‘ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে। গত ১৬ মাস অব্যাহত ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষিতে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মুস্তাফিজ ইস্যু এবং আইসিসির চিঠিতে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। 

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, 'ক্রিকেটের ওপর কারও মনোপলি থাকা উচিত না। আইসিসি সত্যিই গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হলে ভারতের কথায় ওঠবস না করে অবশ্যই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এই প্রশ্নে আমরা নতি স্বীকার করবো না। যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারের খেলার পরিবেশ নেই। তারা যখন বলে মুস্তাফিজকে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে। ভারতের কোনো জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।’


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

গোল-অ্যাসিস্টে মহাকাব্যের ইতি টানলেন মেসি

প্রকাশিত :  ০৫:৫২, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল গোল, অ্যাসিস্ট আর আবেগে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে বেনিনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বিদায়ের আবহ। ম্যাচ শুরুর আগে বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি মাঠে মেলে ধরা হয়। আর ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে মেসিকে এক মিনিট ধরে সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাননি মেসি। ৭ মিনিটে তার দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

তবে বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে আসে গোলটি।

এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন নিকো পাজ। বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস পেয়ে পাজ বল নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বেনিনের জালে পাঠান। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি।

এর ১১ মিনিট পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১২৬তম গোল।

শেষ দিকে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও শট বাইরে মারেন তিনি। গোলটি হলে বিদায়ী ম্যাচে তার পারফরম্যান্স আরও বর্ণিল হয়ে উঠত।

ম্যাচের আগে মেসি নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর কেটে গেছে ২১ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা।

অবশেষে সেই বিদায়ও হলো তার চেনা ছন্দে- গোল ও অ্যাসিস্টে। নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার সময় তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় হয়নি; শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে এক কিংবদন্তির মহাকাব্যিক অধ্যায়ের।


খেলাধূলা এর আরও খবর