img

বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে: ইরানি কর্মকর্তা

প্রকাশিত :  ১৪:৩৯, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৫০, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে: ইরানি কর্মকর্তা

ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পেছনে তিনি সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন ঐ ইরানি কর্মকর্তা। তবে নিহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই প্রকাশ করেননি তিনি।

এর আগে, একটি মানবাধিকার সংস্থা কয়েক শতাধিক নিহতের তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে রাতের বেলা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও রয়টার্স যাচাই করেছে। ভিডিওতে বন্দুকধারীদের সহিংসতা এবং গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগার দৃশ্য দেখা গেছে।

কয়েকদিনের টানা ব্ল্যাকআউটের পর সোমবার কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে ইন্টারনেট পরিস্থিতি। এর ফলে প্রকাশ পাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে সৃষ্টি হওয়া ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহতদের ভিড় দেখা গেছে, আর মর্গগুলোতে জমেছে মরদেহের স্তুপ। বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে ধরপাকড় এবং হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হামলার বিষয়টি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে। তবে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টেবিলে সব বিকল্পই থাকে। সেগুলোর মধ্যে বিমান হামলাও একটি। তবে, কূটনীতি প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। ইরানি শাসকরা প্রকাশ্যে যা বলছেন তা তাদের ব্যক্তিগতভাবে পাঠানো বার্তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের বার্তাগুলো পর্যালোচনার আগ্রহ রয়েছে প্রেসিডেন্টের।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ‘শিক্ষিত’ হতে বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:৩৭, ২৪ জুন ২০২৬

তেহরানের সঙ্গে হওয়া নতুন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা এবং বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের দলের প্রভাবশালী সিনেটর টেড ক্রুজের তীব্র বিরোধিতার জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার বন্ধু হলেও যারা এ চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে হবে। কারণ ইরানকে আমরা এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, যেখানে আগে কোনো প্রশাসন যেতে পারেনি।’ তবে ট্রাম্পের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসে তার এই নীতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারাই অভিযোগ তুলেছেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে কংগ্রেসকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং না দেওয়ায় ক্যাপিটাল হিলে অনেকেই প্রকাশ্য উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলোর কঠোর বিরোধিতা করছেন।

হোয়াইট হাউসের এই নীতিকে ভুল আখ্যা দিয়ে এক কড়া বক্তব্যে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন যে, ‘ইতিহাস প্রমাণ করে, আমাদের ক্ষতি করতে চায় এমন ধর্মতান্ত্রিক উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়া অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত।’ 

তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমি চাই না আয়াতুল্লাহ সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পয়সাও যাক।’ ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও কংগ্রেসের সদস্যরা এখন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের দাবি তুলছেন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর