img

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিতে গ্রুপ পরিবর্তনের চিন্তা আইসিসির

প্রকাশিত :  ০৪:৫৩, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিতে গ্রুপ পরিবর্তনের চিন্তা আইসিসির

ভিসা জটিলতার কারণে ভারতীয় আইসিসি প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। তবে তিনি অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন। শনিবার গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিসিবির বৈঠকে পুরোনো নানা ইস্যু আবারও আলোচনায় আসে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল আইসিসির এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তবে বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি। তবে শনিবারের সভায় বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আইসিসির প্রতিনিধি দল ফিরে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে। দুই পক্ষই মনে করছে, এই আলোচনা চলতে থাকবে এবং একটি ইতিবাচক সমাধান হবে।

কাল ভোরে ঢাকায় এসেছিলেন আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ । ব্রিটিশ পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আগে ছিলেন আইসিসির এ বিভাগের অপারেশন্স ম্যানেজার। ভিসা প্রত্যাশার চেয়ে দেরিতে পাওয়ায় গৌরব সাক্সেনা সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পেরে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। তিনি আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের।

বিসিবি রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বোর্ড থেকে আইসিসির ২ প্রতিনিধিকে নতুন এক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর সেটা হলো বাংলাদেশের গ্রুপটাই বদলে দেওয়া। সেক্ষেত্রে বি গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলতে হবে বাংলাদেশকে, কারণ সে গ্রুপের সবকটি ম্যাচই হবে শ্রীলঙ্কায়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আলোচনায় বিসিবি আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তর করার জন্য। পাশাপাশি দল, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামত ও উদ্বেগও আইসিসির কাছে তুলে ধরা হয়। বৈঠকটি গঠনমূলক, সৌহার্দপূর্ণ ও পেশাদার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ খোলামেলাভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি, ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান সহজ করতে বাংলাদেশ দলকে ভিন্ন একটি গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।’

বিসিবির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বিসিবি জানিয়েছে, দুই পক্ষই এ বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

উগ্রবাদীদের চাপে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয়। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলংকায় নিজদের ম্যাচগুলো খেলতে চায় বাংলাদেশ। নিজেদের অবস্থানে বিসিবি অনড় থাকলেও আইসিসি চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপে অংশ নেয়।

img

অস্ট্রেলিয়ার ‘আশ্রয়’ ত্যাগ করে ইরানে ফিরছেন আরও ৩ ফুটবলার

প্রকাশিত :  ০৭:১০, ১৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসা নিয়ে থেকে যাওয়া ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও তিনজন সদস্য দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ রোববার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই তথ্য জানান। এতে প্রথমে সাতজন আশ্রয় নিলেও এখন মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন।

বার্ক বিবৃতিতে বলেন, ‘গভীর রাতে ইরানি নারী ফুটবল দলের তিনজন সদস্য বাকি দলের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের কাছে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর তাদের বারবার বিকল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

ইরানি দল গত ফেব্রুয়ারিতে নারী এশিয়ান কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা পৌঁছেছিলেন।

২৬ সদস্যের দল থেকে প্রথমে ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য মানবিক ভিসা নিয়ে থেকে যান। ৯ মার্চ বাকি দল সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলে যায়। এরপর একজন মত বদলে দেশে ফেরেন। শনিবার রাতে আরও তিনজন সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের পথে রওনা দেন। বাকি দলটি তখন থেকে কুয়ালালামপুরেই অপেক্ষা করছিল।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সর্বশেষ ফেরা তিনজনের মধ্যে দুজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য। এই তিনজন ‘পরিবার ও মাতৃভূমির উষ্ণ আলিঙ্গনে ফিরছেন’ বলে সংবাদ সংস্থাটি বিবৃতিতে জানায়।

প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরলে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ইরানি প্রবাসী গোষ্ঠী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাদের সাহায্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা খেলোয়াড়দের দলে ফেরাকে ‘আমেরিকান-অস্ট্রেলিয়ান প্রকল্পের লজ্জাজনক ব্যর্থতা এবং ট্রাম্পের আরেকটি পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।