img

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

প্রকাশিত :  ০৭:০৩, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র—যেখানে বিভাজনের বদলে ঐক্য, আশা ও নিরাময় হবে রাজনীতির ভিত্তি।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর পলিসি সামিট–২০২৬–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সামিটে দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করে যেখানে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কার্যকর থাকবে, প্রশাসন হবে জবাবদিহিমূলক এবং ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। তার ভাষায়, ন্যায় ও নৈতিকতার ভিত্তি ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না।

নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দলের মোট সদস্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। নতুন বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষায় নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য বরদাশত করা হবে না বলে তিনি জানান।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নতুন শাসনব্যবস্থায় যুব কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, কর্মক্ষম তরুণ সমাজই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে পারে।

তিনি একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে স্বচ্ছ বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা হবে। শিল্পায়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়—সে বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী কঠোর অবস্থান নেবে। দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনপ্রীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে তিনি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সংখ্যালঘু অধিকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষাকে কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জাতি, ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে তার দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানান।

জাতীয় এর আরও খবর

img

মোটরসাইকেলে এসে মোবাইল ব্যাংকিং কর্মীদের গাড়ি আটকে গুলি, দুই বস্তা টাকা লুট

প্রকাশিত :  ২০:৪০, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশকর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে এ হামলা চালায় তারা। এতে চারজন আহত হয়েছেন, যাঁদের একজনের পেটে গুলি লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা।

হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাদের গাড়িচালক। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে তোলা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের গাড়িটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে তারা।

পরে হিমেলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

গুলিবিদ্ধ হিমেল (৩৫) মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন- ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তার অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সমকালকে জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর