img

শ্রীমঙ্গলে রঙিন ক্রীড়া উৎসব, উচ্ছ্বাসে মাতল সেন্ট মার্থাস কিন্ডারগার্টেন

প্রকাশিত :  ১৬:১২, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে রঙিন ক্রীড়া উৎসব, উচ্ছ্বাসে মাতল সেন্ট মার্থাস কিন্ডারগার্টেন

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের সুবাসে ঘেরা পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে শিশুদের প্রাণোচ্ছ্বল অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো সেন্ট মার্থাস কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে আনন্দ, রঙ আর উচ্ছ্বাসে—যেখানে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রাণবন্ত বার্তা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আর এন ডি এম সিস্টার সঙ্গীতা গমেজকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে জানায় আন্তরিক শুভেচ্ছা। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় অতিথিদের ব্যাজ ও ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হলে পরিবেশ আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

উদ্বোধনী আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর সমবেত ডিসপ্লে উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে। পরে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা—১০০ মিটার দৌড়, ব্যাঙের লাফ, সোয়েটার পরা দৌড়, চকলেট দৌড় ও দৌড়ে বেলুন ফাটানোসহ নানা আনন্দঘন খেলায় মুখরিত হয়ে ওঠে মাঠ। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য দেশভ্রমণ খেলা এবং শিক্ষক-স্বেচ্ছাসেবকদের চামচে বল নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা যোগ করে ভিন্ন মাত্রার প্রাণচাঞ্চল্য।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে “যেমন খুশি তেমন সাজ” পর্ব, যা রঙিন সাজে দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় হাসি আর বিস্ময়। শিক্ষক শাওন ইন্দুনয়ারের সাবলীল সঞ্চালনা এবং প্রধান শিক্ষক আর এন ডি এম সিস্টার সুপ্রীতি বিবিয়ানা কস্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর এন ডি এম সিস্টার নিলু মৃ।

শেষ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ—যা শিশুদের মুখে এনে দেয় গর্ব আর আনন্দের দীপ্ত হাসি।

শ্রীমঙ্গলের এই রঙিন ক্রীড়া আয়োজন আবারও মনে করিয়ে দিল—শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাই পারে শিশুদের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনাকে ডানা মেলতে শেখাতে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ফাটল, আতঙ্কে কৃষক

প্রকাশিত :  ০৭:৩৩, ১৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৫, ১৬ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় গত দুই রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস নামার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে আছে বলে জানিয়েছে স্থাণীয় স্থানীয় কৃষকরা ।

কৃষকদের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে দায়সারা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। চৈত্রের শুরু হয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি অধিকংশ বেড়িবাঁধের কাজ। ফলে হাওরের বোরো ধান তুলা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধির (১৫ দিন আবেদনের পরও) শনিবার পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। ৩ নম্বর প্রকল্প, আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া মিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জামাইকাটা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এই বেড়িবাঁধ নিয়ে আমরা আতংকে রয়েছি। যদি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে তবে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমরা এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না। জামাই কাটাসহ হাওরের বিভিন্ন বেড়িবাঁধের কাজ ভালো হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ অবস্থায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ০.০৫৮ কি.মি. দৈর্ঘ্যর বাধঁ নির্মান / মুখ বন্ধ করন কাজের জন্য ৮ লক্ষ ছয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্হানীয় কৃষক তানভির মিয়া জানান, ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩ লক্ষ টাকারও কাজ হয়নি। দায়সারা বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে পড়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. গয়াছুর রহমান বলেন, আমি কোন ফাটল বা ধস দেখতে পাইনি। এই হাওরে আমার নিজের অনেক জমি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনো। বাঁধের ত্রুটি মেরামত করে দিবো।

জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ ফরিদ মিয়া জানান, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধে ফাটল শুনেছি। এছাড়াও ৩ ও ৯৪ নম্বর প্রকল্পে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ১১ নম্বর প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে কাজ চলমান রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, সময়ে সময়ে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ তদারকি করছি আমরা। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর