img

ভোটের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্দেশ্যে গ্রামে ফেরার এই ঢল এখন চোখে পড়ার মতো। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দূরপাল্লার বাস ধরতে ঘরমুখো ভোটারদের ভিড় ও ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।

কারও হাতে ব্যাগ, কারও মাথায় বস্তা—অনেকে আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ দল বেঁধে পিকআপ কিংবা ট্রাকে করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। এদিকে যাত্রীর চাপ বাড়ার সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যাত্রীরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

আগামীকাল বুধবার শেষ কর্মদিবস হওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই আগেভাগেই পরিবার নিয়ে রওনা দিয়েছেন। বাস টার্মিনালগুলোতে ঈদের সেই চিরচেনা দৃশ্য। 

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার থেকে ভিড় আরও বাড়বে। বাসের আগাম টিকিটও প্রায় শেষ।

রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনেও ট্রেনের টিকিটের জন্য দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক বছর পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়ে সবাই এভাবে নিজ এলাকায় ছুটছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

চাকরি ও কর্মসূত্রে ঢাকা ও গাজীপুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ বসবাস করেন। কর্মজীবী এই বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থায়ী ঠিকানা গ্রামে, মফস্বল শহরে। তারা নিজ নিজ এলাকার ভোটার। গত ১৭ বছর ধরে ভোট দিতে না পারা বহু মানুষ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান, যা নির্বাচনি প্রচারের সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ঘিরে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও পোশাক শ্রমিকরা পেয়েছেন চার দিনের ছুটি। এই সুযোগে ঢাকা ও গাজীপুরের অস্থায়ী ঠিকানার ভোটাররা তাদের স্থায়ী ঠিকানার পথে ছুটেছেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রায় দেবেন দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা। এই উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি। পরদিন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। অবশ্য শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারিও (মঙ্গলবার) ছুটি। এই সূচি ধরে যেমন ভোট দেওয়ার জন্য, তেমনি স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও মানুষ বাড়ি ছুটছে।

সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর, ঢুলিভিটা, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, আমিনবাজার ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ, বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশুলিয়া, জামগড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় ঘরমুখো যাত্রীর চাপ।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।


বাংলাদেশ এর আরও খবর