img

মৌলভীবাজারের চা বাগানে ভোটের দিনে বাস্তবতার দ্বৈত দৃশ্য

প্রকাশিত :  ১০:৩৯, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারের চা বাগানে ভোটের দিনে বাস্তবতার দ্বৈত দৃশ্য

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলা আজ ভোটের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতোই এখানে মানুষ ভোট দিতে বেরিয়েছে, তাদের হাতে রয়েছে ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। কিন্তু বাগানের এক কোণে, এই গণতন্ত্রের উৎসবের মাঝে দেখা মিলছে এক ভিন্নরকম দৃশ্য—দুই চা শ্রমিক কাঁধে বাঁশ তুলে হাঁটছেন, কুঁড়েঘর মেরামতের তাগিদে।

ঝড়ের ভয় আর আকাশে জমাট মেঘ। এই দুই শ্রমিকের কাছে আজকের দিনটি কেবল নির্বাচনের নয়, বরং বেঁচে থাকার দিন। ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র বদলের স্বপ্ন যত বড়ই হোক, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হল ঘরের চাল মেরামত করা।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৯২টি চা বাগান রয়েছে, যেখানে কয়েক লক্ষ শ্রমিক বসবাস করেন। এই শ্রমিকদের জীবন এখনও নরম মাটির উপর দাঁড়িয়ে—দেশের উন্নয়নের ঘোষণা যত বড়ই হোক, তাদের বাস্তবতা পরিবর্তনের অপেক্ষায়।

দেশের উন্নয়ন, সরকারি ছাদের মজবুতির প্রতিশ্রুতি এবং গণতান্ত্রিক ভোটের উন্মাদনা—সবই আজ একসাথে চলছে। কিন্তু চা বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটছে এই দুজন শ্রমিক যেন নীরবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে: “রাষ্ট্রের ছাদ মজবুত হবে, কিন্তু আমাদের কুঁড়েঘরের ছাদ কবে?”

বাগান এলাকার এই দ্বৈত দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, গণতন্ত্রের উৎসব যত আনন্দদায়ক হোক, বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা, শ্রমিকের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ এবং বেঁচে থাকার তাগিদও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুই শ্রমিক কাঁধে বাঁশ বহন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। ছবিটি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগান থেকে তোলা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর