img

সিলেটে বিএনপির তিন প্রবাসী প্রার্থীর জয়

প্রকাশিত :  ০৭:৩৬, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০৭, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সিলেটে বিএনপির তিন প্রবাসী প্রার্থীর জয়

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন প্রবাসী। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁরা জয়ও পেয়েছেন। এসব বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আছেন।

সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির যুক্তরাজ্য শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ–৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ও মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম মনোনয়ন পান।

ফলাফল ঘেঁটে দেখা গেছে, এম এ মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪। মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ২২৬ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে মো. সওকতুল ইসলাম ৮৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক ও কয়ছর আহমদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁরা দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৎপর হন। এম এ মালিক দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত ১৭ অক্টোবর দেশে আসেন। এর আগে প্রবাসে থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি প্রবাসে আওয়ামী লীগ ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নিয়মিত বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে দলের ভেতরে–বাইরে আলোচিত হয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে প্রায় এক যুগ পর দেশে ফেরেন কয়ছর আহমদ। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় শক্তিশালী প্রার্থী তেমন ছিলেন না। সে কারণে কয়ছর আহমদ সহজেই ভোটের মাঠের দখল নিয়ে নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম অনিয়মিতভাবে দেশে আসতেন। তিনি ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সওকতুল ইসলাম এলাকায় থেকে নানা কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর