img

ওসিকে গালিগালাজ করা হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সেই সভাপতি আটক

প্রকাশিত :  ১০:৪২, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ওসিকে গালিগালাজ করা হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সেই সভাপতি আটক

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও অশালীন মন্তব্য করার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জেলা পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তুষারকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরআগে শনিবার বিকেলে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে ফেরদৌস চৌধুরী তুষারের অশালীন মন্তব্য করা একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজে দুজনের ফোনালাপের এ অডিও কল রেকর্ডটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। অডিও কলটিতে থানার ওসি সাইফুল ইসলামকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারের আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায়।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মখলিছুর রহমানের সঙ্গে ওসির ফোনালাপ চলাকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি উত্তেজিত হয়ে ওসিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন- এমন একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি রিসিভ করতে পারিনি। পরবর্তীতে তিনি মখলিছ সাহেবের ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তখন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার বলেছিলেন, আমি সরাসরি তাকে কল দিয়েছি- এমন প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।

পাল্টা অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন এবং প্রশাসনকে বিষয়গুলো তদন্তের আহ্বান জানান।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচনে লড়তে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমনের রিট

প্রকাশিত :  ১৩:০৬, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন) কারাগারে থাকা অবস্থায় আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দাখিল করা হয়। রিটে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে করা তার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা চেয়ে রুল জারির আর্জিও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

এর আগে রোববার (১২ এপ্রিল) বার কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের অনুমতি চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন করা হয়। ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ ওই আবেদন দাখিল করেন।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল। যেহেতু ব্যারিস্টার সুমন বর্তমানে কারাবন্দি, তাই জেল কোড অনুযায়ী তার স্বাক্ষর গ্রহণে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যারিস্টার সুমন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। প্রার্থিতার জন্য ফরমে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ব্যারিস্টার সুমন। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও আইনজীবী পেশাজীবীদের শীর্ষ সংগঠন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর