img

ওসিকে গালাগাল: হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ওসিকে গালাগাল: হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-কে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে দুপুর ২টার দিকেও বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর