img

পাতিচখার দুপুর: সিলেটের চা বাগানে শ্রমজীবী জীবনের এক সরল প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত :  ১৩:৪৯, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:২১, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

পাতিচখার দুপুর: সিলেটের চা বাগানে শ্রমজীবী জীবনের এক সরল প্রতিচ্ছবি

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের চা বাগানে দুপুর নামলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। সবুজের বিস্তৃত চাদরের নিচে গাছের ছায়ায় বসে একদল নারী-পুরুষ শ্রমিক ভাগাভাগি করে নেন তাদের মধ্যাহ্নভোজ। নেই কোনো আড়ম্বর, নেই বিলাসিতা—তবু এই সরল আহারের মধ্যেই মিশে থাকে তৃপ্তি, সহমর্মিতা আর বেঁচে থাকার নিরব গল্প।

তাদের খাবারের তালিকা খুবই সাধারণ—আটা রুটি, আলু পোড়া এবং চা পাতার ভর্তা, যা স্থানীয়ভাবে ‘পাতিচখা’ নামে পরিচিত। সদ্য তোলা কচি চা পাতা, লবণ এবং কখনো পোড়া আলু মিশিয়ে তৈরি এই ভর্তা স্বাদে হয়তো অনাড়ম্বর, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে থাকে দীর্ঘদিনের শ্রম, সংগ্রাম এবং টিকে থাকার এক অনন্য বাস্তবতা। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমের পর এই সামান্য খাবারই শ্রমিকদের নতুন করে কাজের শক্তি জোগায়।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরের সাংবাদিক সালেহ এলাহী কুটি চা বাগানের এমনই এক দুপুরের চিত্র ধারণ করেন। ছবিতে দেখা যায়, নারী চা শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে বসে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করছেন। কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে তাদের এই আহার কেবল খাদ্যগ্রহণ নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্ক, ভাগাভাগি এবং জীবনের প্রতি একধরনের সহজ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ।

বাংলাদেশে চা শিল্পের বিস্তার দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে। সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১৬০টির মতো চা বাগান রয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে গড়ে ওঠা এই শিল্পে তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উড়িষ্যা থেকে আনা শ্রমিকদের উত্তরসূরীরাই আজও এই বাগানগুলোতে কাজ করে চলেছেন।

একসময় দেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ চা থেকে আসত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জ্বালানি, শ্রম, সার ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে। কেনিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম খরচে ও বৈচিত্র্যময় পণ্য সরবরাহ করায় বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিযোগ্য উদ্বৃত্তও কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতকে টেকসই করতে হলে গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদন বৈচিত্র্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার প্রয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

চা বাগানের এই দুপুর তাই কেবল একটি খাবারের গল্প নয়, বরং এক জীবনের প্রতিচ্ছবি। ‘পাতিচখা’ এখানে শুধু ভর্তা নয়—এটি শ্রম, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এক নীরব ভাষা, যা প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মধ্যরাতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত :  ১৯:৫৮, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিক আহমদ রাত সাড়ে ১২ টায় সিলেটটুডেকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো ধোঁয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে এতে ফ্লাইটে কোন ব্যাঘাত হয়নি।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুবউদ্দিন জানান, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর