img

রবিবারের পুঁজিবাজারে এক নতুন আশাবাদের অভিযাত্রা, নীতি সংস্কারের জোয়ারে চাঙ্গা

প্রকাশিত :  ১১:২৩, ১৩ জুন ২০২৬

পুঁজিবাজার: ১৪ জুনের ইতিবাচক পূর্বাভাস

রবিবারের পুঁজিবাজারে এক নতুন আশাবাদের অভিযাত্রা, নীতি সংস্কারের জোয়ারে চাঙ্গা

✍️ ড. নাজমুল ইসলাম 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের পুঁজিবাজারে এক অভাবনীয় ইতিবাচক তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে। গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক উপস্থাপিত ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেটটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক হিসাববিবরণী নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান পুঁজিবাজারকে একটি গভীর, বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী বিনিয়োগবান্ধব কাঠামোয় রূপান্তরের সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ। বাজেট পেশের দিনেই লেনদেনের শেষভাগে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তা এবং শেষ ঘণ্টার ঝোড়ো ক্রয়চাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৫,৫২০ পয়েন্টে থিতু হয়, যা বিগত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাজেটের এই কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাবনা এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বাজেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত স্বাগত জানানো বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলশ্রুতিতে, ১৪ জুন ২০২৬ রবিবারের আসন্ন কার্যদিবসে বাজার এক ব্যাপক ইতিবাচক ও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মুখোমুখি হবে বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা সংশয় কেটে গিয়ে বাজারে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক তহবিলের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রবিবারের লেনদেন কেবল চাঙ্গা ভাব বজায় রাখবে না, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি বুলিশ প্রবণতার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর: বাজেটের বৈপ্লবিক নীতিমালার বিশ্লেষণ

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের গভীরতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগেকার বাজেটগুলোর কর-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের বাজেট পুঁজিবাজারের মৌলিক কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য পুঁজিবাজার থেকে ইক্যুইটি-ভিত্তিক মূলধন সংগ্রহের এই নীতিগত পরিবর্তন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তি সুসংহত করবে এবং বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াবে। আইপিও (IPO) আবেদনের জটিলতা, বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদন জমা, নথিপত্র যাচাই, ফি প্রদান এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, যা বহুজাতিক ও স্বনামধন্য স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

বাজারের গতিশীলতা ও তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে বর্তমান টি+২ (T+2) নিষ্পত্তি চক্র থেকে ক্রমান্বয়ে টি+১ (T+1) এবং পরবর্তীতে উন্নত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী একই দিনে নিষ্পত্তি বা টি+০ (T+0) নিষ্পত্তিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের মূলধনের ঘূর্ণন গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং বাজারের সামগ্রিক তারল্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। অনাবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট (NITA)-এর মাধ্যমে লভ্যাংশ ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ মাত্র এক কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দ্বৈত তালিকাভুক্তির (Dual Listing) সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে করপোরেট বন্ডের পরিধি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুকুক ও অবকাঠামো তহবিলের মতো বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ উপকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী এবং ইস্যু ম্যানেজারদের জন্য পেশাদার দায়বদ্ধতা কাঠামো ও বাধ্যতামূলক দায় বিমা চালু করা হচ্ছে, যা আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে।

খাতভিত্তিক কর হ্রাস ও প্রণোদনা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেমন বয়ন ও পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর (Advance Tax) ৫% থেকে কমিয়ে ৪% এ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কোম্পানিগুলোর পরিচালন মূলধনের ওপর চাপ অনেকাংশে লাঘব করবে এবং নগদ প্রবাহ উন্নত করার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে। রপ্তানি প্রণোদনার ওপর অগ্রিম আয়কর (AIT) ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব এবং সিন্থেটিক কাপড়ের ওপর থেকে ১০% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার ফলে স্পোর্টসওয়্যার ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মুনাফার মার্জিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর থেকে শুল্ক ও অগ্রিম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনবে। কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) জন্য ২,০০০ কোটি টাকা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ পুঁজিবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মকে আরও চাঙ্গা করবে। স্বর্ণ ও অলঙ্কার আমদানিতে উৎস কর ৫% থেকে কমিয়ে ০.৫% করা এবং অলঙ্কার শিল্পের ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারও সংশ্লিষ্ট খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ফ্লোর প্রাইসের অবসান এবং মুক্তবাজারের স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তন

বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপটি এসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে। গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে নবগঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দীর্ঘদিন ধরে বাজারে কৃত্রিমভাবে বজায় রাখা বেক্সিমকো লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেয়। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপের অবসান ঘটায় বাজারে দীর্ঘদিনের তারল্য জট দূর হয়েছে এবং বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর প্রথম দুই দিন এই দুই হেভিওয়েট শেয়ারের দরপতনের কারণে সামগ্রিক সূচকে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও বাজার অত্যন্ত দ্রুত সেই ধাক্কা শুষে নিয়েছে।

গত ৯ জুনের লেনদেনে ডিএসইএক্স সূচক ৩৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৫১৯ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং দৈনিক লেনদেন ১,৩৮৭ কোটি টাকার বহু-সাপ্তাহিক উচ্চতায় পৌঁছায়, যা প্রমাণ করে যে বাজার এখন কৃত্রিম মূল্যের বন্দিদশা থেকে মুক্ত এবং স্বাভাবিক চাহিদা-দামের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে প্রস্তুত। বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝতে পেরেছেন যে ফ্লোর প্রাইস না থাকার অর্থ হলো বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্বচ্ছ লেনদেনের পথ সুগম হওয়া। এই মনস্তাত্ত্বিক বিজয় আগামীকালের লেনদেনে একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, কারণ দীর্ঘদিনের আটকে থাকা তারল্য এখন সক্রিয়ভাবে বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

নতুন নিয়ন্ত্রক কমিশনের সুশাসন ও অপরাধ দমনে জিরো-টলারেন্স নীতি

বাজারের এই ইতিবাচক গতিশীলতার পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন ও পেশাদার নেতৃত্ব। গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে দেশের প্রখ্যাত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে বিএসইসি-র নতুন চেয়ারম্যান এবং তিনজন অভিজ্ঞ পেশাদারকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি-র নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পুঁজিবাজারকে একটি খুচরা বিনিয়োগকারী-প্রধান ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী-প্রধান এমার্জিং মার্কেটে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা করেছেন যে বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, ওয়াশ ট্রেড কিংবা পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প স্কিম সহ্য করা হবে না এবং কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে রিয়েল-টাইম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।

একই সঙ্গে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার এবং অচল কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত না হন। সুশাসনের এই নতুন প্রতিশ্রুতি বাজারে সুপ্ত থাকা অফুরন্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। ডিএসই চেয়ারম্যানের স্বাগত বক্তব্য এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিশেষ সহকারী নিয়োগের ফলে নীতি নির্ধারণী মহলের সঙ্গে বাজারের দূরত্ব ঘুচে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদৃঢ় আস্থার সঞ্চার করেছে।

রবিবারের বাজার পরিস্থিতি: ইতিবাচক উত্থানের প্রধান অনুঘটকসমূহ

১৪ জুন ২০২৬ রবিবারের বাজারগতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত নিয়ামক কাজ করছে, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন সেশনের ইঙ্গিত দেয়। প্রথমত, ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের সুদের হার সম্প্রতি কিছুটা কমতে শুরু করায় মুদ্রাবাজার থেকে উদ্বৃত্ত তারল্য পুঁজিবাজারে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবেই ডিএসই সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করে। দ্বিতীয়ত, সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে বিনিয়োগকারীরা বাজেটের সামগ্রিক ইতিবাচক দিকগুলো—বিশেষ করে টি+০ নিষ্পত্তি, ডিজিটালাইজড আইপিও প্রক্রিয়া এবং করপোরেট কর কাঠামোর স্থায়িত্ব—সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের নতুন তহবিল খাটাতে উৎসাহিত করবে।

তৃতীয়ত, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের মূল্য যে যৌক্তিক স্তরে নেমে এসেছে, তা এখন দরকষাকষিতে পারদর্শী প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা বার্গেইন হান্টারদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ার পর যে সংশোধন তৈরি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের প্রবেশ ঘটায় বাজার এখন ক্রয়ের চাপে থাকবে। চতুর্থত, বিএসইসি-র নতুন নেতৃত্ব কর্তৃক বাজারে কারসাজি দমনে প্রযুক্তিনির্ভর রিয়েল-টাইম নজরদারির আশ্বাস সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে এনেছে, ফলে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা সাইডলাইন বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। এই সব বিষয় একত্রিত হয়ে আগামীকাল রবিবার ডিএসইতে একটি ব্যাপক বাই প্রেসার বা ক্রয়চাপ তৈরি করবে, যা সূচককে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ ও সমাপনী পর্যবেক্ষণ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈপ্লবিক সংস্কার কার্যক্রম বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতা, কৃত্রিম ফ্লোর প্রাইস এবং সুশাসনের অভাব কাটিয়ে বাজার এখন সম্পূর্ণ পেশাদার ও সুশৃঙ্খল গতিপথে ধাবমান। যদিও আগামী দিনে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কিছু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে, তবু পুঁজিবাজারের কাঠামোগত রূপান্তর এই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য বাজারকে যথেষ্ট সহনশীল করে তুলবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ থাকবে—সাময়িক গুজবে কান না দিয়ে কোম্পানিগুলোর মৌলিক আর্থিক ভিত্তি, লভ্যাংশের ইতিহাস এবং ব্যবসায়িক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করা। আগামীকাল রবিবারের বাজার কেবল একটি ইতিবাচক দিন হিসেবেই শেষ হবে না, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী সুশাসন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে পুঁজিবাজারের এক গৌরবময় যাত্রার সূচনা করবে।

img

এফবিআই’র ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানের, বিশ্বকাপে হামলার হুমকি

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ১৩ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ড্রোন সিস্টেম হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। একই সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে সাইবার ও ড্রোন হামলার হুমকিও দিয়েছে তারা।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হানদালা’ নামের ওই হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং সেখান থেকে ধারণ করা ছবি ও সন্দেহভাজনদের তথ্যেও তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে।

গ্রুপটির দাবি অনুযায়ী, ‘কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এই ড্রোনগুলোতে মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্য পৃথক করার প্রযুক্তি রয়েছে’।

বিবৃতিতে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে হুমকির সুরে বলা হয়, ‘আপনাদের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। কারণ (অংশগ্রহণকারী) দলগুলোর কয়েকটিকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। ভুলে যাবেন না এফপিভি ড্রোন সব জায়গায় আছে। আপনারা কখনোই জানবেন না যে কখন একটি ড্রোন ঠিক কোন দলের বাসের ভেতরে গিয়ে হাজির হবে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা নজরদারি বাড়িয়েছে।

তবে সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে, হানদালার দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি করা একটি ভিডিও ২০২৪ সালের পুরোনো, যা মূলত দুর্যোগ বিশ্লেষণ সফটওয়্যারের প্রচারণামূলক অংশ ছিল।

এর আগেও চলতি বছরের মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল হ্যাক করার দাবি করেছিল এই গ্রুপ। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং তাদের শনাক্তে তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।