img

সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৬:৪১, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

 সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় হুমায়ুন আহমেদ (৩০) নামের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপড়া জামে মসজিদের ইমাম।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমামতি করার সুবাদে মসজিদের পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে হুমায়ুনের ভালো সম্পর্ক হয় এবং ওই বাড়ির কিশোরী দিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসের ২৪ তারিখ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার সময় মসজিদসংলগ্ন ইমামের কক্ষে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন হুমায়ুন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য কিশোরীকে চাকু দেখিয়ে ভয় দেখান। এরপর গত ১৭ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের থাকার ঘরে ওই কিশোরীকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখান।

এরপর বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান ও ভয়-ভীতি দেখান হুমায়ুন। এক পর্যায়ে কলেজছাত্রী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই কলেজছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে মামলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকে বুধবার (৫ আগস্ট) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুজনকে খালাস

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় প্রদান করা হলো।

রায় প্রদানের তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার।

ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সাথে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করতে দুদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর