img

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে উদ্ধার দুই বিশাল অজগর, বনে ফেরানোর প্রস্তুতি

প্রকাশিত :  ১৯:৪১, ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৪, ২৯ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে উদ্ধার দুই বিশাল অজগর, বনে ফেরানোর প্রস্তুতি

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুটি বড় আকৃতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগান থেকেও আরেকটি বড় অজগর উদ্ধার করেছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।

বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনের সদস্যরা জানান, উদ্ধার করা অজগর দুটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে এগুলোকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাগছড়া চা-বাগানে ১৬ ফুটের অজগর

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় চা-শ্রমিকেরা ঝোপের মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি অজগর দেখতে পান। প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ কেজি ওজনের সাপটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান।

খবর পেয়ে বাগানের কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ফুলবাড়ী চা-বাগানেও মিলল বড় অজগর

একই দিন সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা-পাতা সংগ্রহের সময় ঝোপঝাড়ের মধ্যে আরেকটি বড় অজগর দেখতে পান শ্রমিকেরা। তাঁরা সাপটিকে আঘাত না করে বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান।

পরে ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের (সিসিএ) সাপ সংরক্ষণকর্মী ও গবেষক চঞ্চল গোয়ালা ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়।

লাউয়াছড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধার করা অজগরটি কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বাড়ছে লোকালয়ে আগমন

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পাহাড়ি বনাঞ্চল, টিলা ও চা-বাগান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। কিন্তু বনভূমি সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল নষ্ট হওয়া এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস কমে যাওয়ার কারণে অনেক বন্যপ্রাণী এখন মানুষের বসতি ও কৃষি এলাকায় চলে আসছে।

তাঁদের মতে, অজগরসহ কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা অনুমোদিত উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত।

ফুলবাড়ী চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া বলেন, শ্রমিকদের সচেতনতার কারণেই অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করে উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, দুটি অজগর উদ্ধারের ঘটনা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ২৮ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নেতারা।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস  আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। 

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এই এলাকায় বাইরে থেকে এসে কিছু লোক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এর জবাবে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

রিংগন আরও বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণ শহরের পরিবেশ নষ্টের দায় যারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বহন করবে। এনসিপির নেতাকর্মীরা মিডিয়ায় নিজেদের হাইলাইট করার জন্য অতিরঞ্জিতভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর