img

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে যুবদল নেতার ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক, বিপাকে পরিবার

প্রকাশিত :  ১৫:১২, ২৪ জুলাই ২০২৬

 প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে যুবদল নেতার ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক, বিপাকে পরিবার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবদল নেতার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠেছে । একই সঙ্গে ওই প্রবাসীরপরিবারকে যুবদল নেতা ও তার লোকজন প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও যুবদল নেতার হুমকি-ধামকি থেকে বাঁচতে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন প্রবাসী মো. আব্দুল মান্নানের ভাবি নাছিমা আক্তার।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন- আমরা শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মহলুল সুনাম এলাকার বাসিন্দা। আমার দেবর মোহাম্মদ আব্দুল মন্নানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সম্পর্কের কারণে আমাদের পুরো পরিবার বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আইনগতভাবে আমার দেবর তার স্ত্রীকে তালাক দিলেও ওই নারী শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল আমাদের পরিবারের সম্পদ হরণ করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। তার নেতৃত্বে দুইবার আমাদের পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে। আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আব্দুল মান্নান চার বছর দুবাইয়ে ছিল। সে প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ তার স্ত্রীর কাছে পাঠাত। যার পরিমাণ কমপক্ষে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু ওই ৩০ লাখ টাকাসহ যাবতীয় স্বর্ণালংকার প্রেমিক আব্দুল জলিলের সহায়তা হাতিয়ে নেন দেবরের সাবেক স্ত্রী।

নাছিমা আক্তার বলেন, বর্তমানে আব্দুল মান্নান নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে আসে। বর্তমানে সে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তার স্ত্রীকেআইনগতভাবে তালাক প্রদান করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদল নেতা আব্দুল জলিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে ১২০০ কমলা গাছ কর্তন: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত :  ১৫:০৮, ২৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৮, ২৪ জুলাই ২০২৬

বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ২০০টি কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সরেজমিন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার।

তদন্তকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, ‘এখানে কিছু গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য রেকর্ড করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।থ তিনি জানান, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা এবং আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তদন্ত কমিটির প্রধানকে সহযোগিতা করতে এসেছি। কেউ যদি সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পাকা রাস্তা বা অন্য কোনো অবকাঠামো তৈরি করে থাকে, সেগুলো আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে। এলাকায় একটি পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রয়েছে। সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হবে।থ

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি বসতি এলাকায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে সেখানে কমলার বাগান, বিভিন্ন স্থাপনা এবং একটি পুকুর তৈরি করা হয়েছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। অভিযানের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফলদ কমলা গাছ কেটে ফেলা হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এই বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় বৃক্ষ, বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ রয়েছে। বনভূমি দখল, অবৈধ চাষাবাদ ও স্থাপনা নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরেই বন বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বন উচ্ছেদ অভিযানে ফলদ বা রোপণকৃত গাছ অপসারণের বিষয়টি প্রায়ই স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দেয়।

এদিকে তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর