img

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশিত :  ০৮:৩৮, ১৯ জুলাই ২০২৬

 শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে অলি মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত অলি মিয়া শ্রীমঙ্গল পৌরসভার জালালিয়া রোড এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

গতকাল ​শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকার ভুরভুরিয়া ছড়া নামক স্থানে উপজেলা প্রশাসন, ৪৬ বিজিবি ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভুরভুরিয়া ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় অলি মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক করার পর তাকে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অভিযোগের সত্যতা থাকা এবং অভিযুক্ত যুবক দোষ স্বীকার করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ধারা ৪(চ) অনুযায়ী তাকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: জিয়াউর রহমান।

​অভিযানকালে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মেজর মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে ৪৬ বিজিবির একটি টিম অভিযানের সার্বিক সহযোগিতা করে।

​এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে সেতু ও শতাধিক বসতঘর

প্রকাশিত :  ১৬:৩৫, ১৯ জুলাই ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটননগরী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভা এলাকার ভানুগাছ বাজারসংলগ্ন ধলাই নদীর সেতুর নিচসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সেতুসহ আশপাশের শতাধিক বসতঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, কমলগঞ্জ থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ধলাই নদীর সেতুর নিচে প্রকাশ্যেই বালু উত্তোলন চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

দৈনিক ইত্তেফাক এর কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মো. নুরুল মোহাইমীন মিল্টনের ভাষ্য, ধলাই নদীর সেতুর নিচসহ লিজবহির্ভূত আরও কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরসংলগ্ন শতাধিক বসতঘর, সেতু এবং প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মো. নুরুল মোহাইমীন মিল্টন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওসহ একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র তুলে ধরেন। পোস্টটিতে অসংখ্য দর্শক মন্তব্য করে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে ধলাই নদীর ওপর নির্মিত সেতু এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ধলাই নদী, নদীতীরবর্তী জনপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর